down of head

খেলাপি ঋণ আদায়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১০ হাজার মামলা

দখলদারদের দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি, সম্পদ অপব্যবহার ঠেকাতে জোরালোভাবে মাঠে নেমেছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণের টাকা উদ্ধার করতে প্রায় ১০ হাজার মামলা করেছে ব্যাংকটি। আরও মামলা করার প্রক্রিয়াও চলছে। এছাড়া নেপথ্যের দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পরিচালিত ফরেনসিক অডিট এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় ব্যাংকটির ছয় মাসের কার্যক্রম, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শাখা একীভূতকরণ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকটির পুনর্গঠন ও অন্যান্য কার্যক্রম তাদের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে চলছে। বিআরডি নিয়মিত এসব কাজের অগ্রগতি দেখছে এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া তদারকিতে দেশের বৃহত্তম এই শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের কার্যক্রম চালু হচ্ছে পাশাপাশি আমানতকারী ও গ্রাহকরা যেন যে–কোনো শাখা থেকে টাকা তুলতে পারে এই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আগের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি এবং সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে যে ফরেনসিক অডিট করা হচ্ছে, সেটিও এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এই অডিটের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ আদায়ে আইনি মামলার পাশাপাশি দ্রুত টাকা আদায়ে ‘এক্সিট পলিসি’ ও ‘অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলেশন’ (এডিআর)-এর মতো সমঝোতামূলক বিকল্প পথও চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়েছে।

ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে গঠন করা হয়েছে। এতে স্বতন্ত্র পরিচালকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত ১৬ জুলাই থেকে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ( সিইও) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমাতে এবং দক্ষতা বাড়াতে ৭৮০টি শাখা এবং ১ হাজার ৫০০টি বিজনেস ইউনিটের মার্জার ও র‍্যাশনালাইজেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এছাড়া, একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংকের যে–কোনো শাখা থেকেই গ্রাহকরা যাতে তাদের টাকা তুলতে পারেন, সে লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ‘কমন ইন্টারফেস’ চালুর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি সিবিএস, সুইফট ও আরএমএসহ সার্বিক আইটি অবকাঠামো অর্থাৎ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও একীভূত করা হচ্ছে।

৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই মেগা রাষ্ট্রীয়-মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংকে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল অগ্রাধিকার। অচল ও আটকে থাকা ফান্ড উদ্ধার করে দ্রুত উৎপাদনশীল খাতে ফেরাতে নিয়মিত ফলোআপ অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সম্পর্কিত খবর