down of head

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ারদর বেড়েছে

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেডের শেয়ারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ না করেই স্বল্প সময়ে শেয়ারের দর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

তবে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারের দাম ও লেনদেনের সাম্প্রতিক উত্থানকে প্রভাবিত করতে পারে-এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

শেয়ারের দাম ও লেনদেনের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় গত ১৭ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটির কাছে এর কারণ জানতে চায়। জবাবে মিথুন নিটিং কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই, যা কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বা লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা আর্থিক অবস্থায় এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি, যার কারণে শেয়ারের দামে এ ধরনের উত্থান হতে পারে। বরং দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির রয়েছে।

এদিকে, নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্যাংক দায়সহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেই প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে কোম্পানি। পরবর্তী সময়ে এ সংক্রান্ত আবেদন স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়। বর্তমানে শেয়ার হস্তান্তরের কোনো চলমান বা অনুমোদিত পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে মিথুন নিটিং।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। গত ১৭ মে শেয়ারটির দর ছিল ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা। ৯ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১৪ টাকা ৪০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ১৪ কার্যদিবসে শেয়ারের দাম বেড়েছে ৭৫ টাকা ২০ পয়সা বা প্রায় ৫৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

শেয়ারের দামের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। কোনো কোনো কার্যদিবসে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি লেনদেন হয়েছে। এতে শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর ও লেনদেন বৃদ্ধির কারণ নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

১৯৯৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৩২ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার রয়েছে ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯১ হাজার ১৬২টি।

২০২৬ সালের ৩১ জুলাইয়ের শেয়ার ধারণের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৭১ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার।

সম্পর্কিত খবর