জ্বালানি সংকটেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির বাধা: ফাহমিদা
জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নতুন নতুন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি না থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ইশতেহারে ঘোষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা—ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—অর্জন করা অবাস্তব হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানি এমন একটি পণ্য ও সেবা, যা ছাড়া অর্থনীতি অচল হয়ে পড়ে। জ্বালানি ছাড়া শিল্পকারখানা, অফিস-আদালত এমনকি মানুষের ঘরবাড়িও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি, যার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, আমরা এখন এই সংকটের মধ্যেই রয়েছি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের অভিঘাত বহুমাত্রিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে আমরা মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার কথা বলতাম। কিন্তু এখন তাৎক্ষণিকভাবে কী করতে হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি সংকটকে একটি পুঞ্জীভূত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এর সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য, জ্বালানির সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলো জড়িত। এর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশও এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানি সংকটের ফলে নতুন কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমরা এমন একটি অবস্থানের মুখোমুখি হয়েছি, যেখানে আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক ইশতেহারে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন পথরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, বিনিয়োগ বাড়ানো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে এসব লক্ষ্য অর্জন করা একেবারেই অবাস্তব হয়ে পড়বে।
আলোচনা সভায় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


