জনতা ব্যাংকে সুপারনিউমারারি পদোন্নতির দাবি
জনতা ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত এবং দীর্ঘদিনের পদবঞ্চনা দূর করার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, সুপারনিউমারারি পদোন্নতির জটিলতা ও নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগ্য কর্মকর্তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে জনতা ব্যাংক পিএলসির প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানেগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদনের দাবিতে সংগঠনটির আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশিকুর রহমান, জহির রায়হান ও মোহাম্মদ খালেদ সাইফুল্লাহ, সদস্য সচিব মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আহমেদ, অর্থ সম্পাদক সুমন ঘোষ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জনি সাহা, দপ্তর সম্পাদক শিয়াব আহমেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সোনিয়া সুলতানা, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ বুলবুল হোসেন এবং আইন বিষয়ক সম্পাদক সম্রাট মালাকার উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সেবার পরিধি ও দায়িত্ব দিন দিন বাড়লেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং নিয়মিত পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য চলছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তাদের দাবি, মূলত দুটি কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রথমত, সুপারনিউমারারি পদোন্নতি অর্গানোগ্রামের বাইরে হওয়ায় পরবর্তীতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নিয়মিত পদোন্নতি কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং পদসংখ্যা পুনর্নির্ধারণে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় শূন্য পদের অভাবে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
সংগঠনের নেতারা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাণশক্তি তার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলে প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে গুড গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠা করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং কাজের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়মিত পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ একটি প্রেসার গ্রুপ ও থিংক ট্যাংক হিসেবে কাজ করছে। দেশের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং নিয়মিত পদোন্নতির পথ সুগম করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেনসহ উপস্থিত নেতারা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সুপারনিউমারারি পদোন্নতি সঙ্গে নিয়মিত পদোন্নতির কোনো সম্পর্ক নেই৷ ফলে সুপারনিউমারারি পদোন্নতি দিতে নিয়মিত পদোন্নতি বাদ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানেগ্রাম)-২০২৫ দ্রুত অনুমোদন করে বিদ্যমান সমস্যা দূর করতে হবে।


