স্বর্ণের দামে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাব

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। এছাড়া নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় অপরিবর্তিত রয়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম।

আজ(১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪,৩৩১.২৯ ডলারে স্থির ছিল। অন্যদিকে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.১ শতাংশ কমে ৪,৩৫১.৪০ ডলারে নেমে আসে। গত সোমবার স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪,৩৭০.৮২ ডলারে উঠেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। পাশাপাশি এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ইরান আবারও তেল বিক্রির অনুমতি পাবে।

ইরানের তেল সরবরাহ বাজারে ফিরতে পারে—এমন প্রত্যাশায় তেলের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেস্টিলাইভের গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, স্বর্ণের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি কিছুটা গতি হারিয়েছে। কারণ এখন সবার নজর ফেডের মুদ্রানীতি ঘোষণার দিকে। কেভিন ওয়ার্শের নেতৃত্বে এটি প্রথম এফওএমসি বৈঠক। তার কড়াকড়ি নীতির ইতিহাস, বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি এবং হোয়াইট হাউসের সুদ কমানোর চাপ—এসবের মধ্যে তিনি কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখবেন, তা নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, ফেডের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক চলতি বছরজুড়ে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে থাকবেন। তবে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সদস্য সুদহার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিতে পারেন।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫৯ শতাংশ। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ঘোষণা আসার আগে এই সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭০.০৫ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ০.৭ শতাংশ কমে ১,৭৯২.০৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৩৪১.২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

সম্পর্কিত খবর