অতিরিক্ত কমিশন ইস্যু
দেশের সকল সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবে আইডিআরএ

 

৯ কোম্পানীর পাশাপাশি দেশের সকল সাধারণ বীমা কোম্পানী পরিদর্শন করবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। বীমা খাতে ‘জিরো কমিশন নীতি’ বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।  আইন লংঘন করে অবৈধভাবে অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার অভিযোগ উঠায় সকল সাধারণ বিমা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নন লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর সম্মতিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারী অতিরিক্ত কমিশন বন্ধ করে ‘শূন্য কমিশন নীতি’ গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পরও বেশ কিছু বীমা কোম্পানি ব্যবসা সংগ্রহে অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে তারা বেতন-ভাতা পরিশোধ, ‘নো ক্লেইম বোনাস’সহ বিভিন্ন খাতে কমিশন অব্যাহত রেখেছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং বিধি-বিধান প্রতিপালন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আইডিআরএ তিনটি পরিদর্শক কমিটি গঠন করে। গত ৪ জুন জারি করা এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনের জন্য পৃথক টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রাথমিক অবস্থায় তারা ৯ টি কোম্পানিতে পরিদর্শন করে।

প্রথম ধাপে পরিদর্শনের আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইউনিয়ন ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ইন্সুরেন্স পিএলসি, কর্ণফুলী ইন্সুরেন্স পিএলসি এবং প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।

পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন এ ভিজিলেন্স টিম এ দাখিল করা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইডিআরএ সদস্য (সাধারন বীমা) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক। তিনি অর্থবাংলাকে বলেন, অনিয়ম বন্ধে দেশের সকল নন লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন টিম কাজ করবে। জনবল সংকটের কারণে প্রথম দফায় ৯ কোম্পানীতে টিম পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য কোম্পানীগুলোতেও পরিদর্শন টিম তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর অপর এক কর্মকর্তা অর্থবাংলাকে বলেন, অতিরিক্ত কমিশন বীমা খাতের অন্যতম সমস্যা। জিরো কমিশন নীতি গ্রহণ করা হলেও কোম্পানীগুলো এখনো কমিশন দিয়ে আসছে। তাদের অপতৎপরতা বন্ধে কঠোর আইডিআরএ। সার্ভিলেন্স টিম সদস্য হতে শুরু করে সকল কোম্পানিতে পরিদর্শন কার্যক্রম চলবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কোম্পানিকে মোটা অংকের জরিমানার পাশাপাশি সিইও কেও জরিমানার আওতায় আনা হবে। শূণ্য কমিশন বাস্তবায়নে প্রয়োজনে কোম্পানীর লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর