তীব্র তাপে বিপর্যস্ত মস্তিষ্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবী ক্রমশ গরম হয়ে উঠছে। এর প্রভাব শুধু আবহাওয়া নয়, আমাদের শরীর ও মস্তিষ্কেও পড়ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে আমাদের মস্তিষ্কের কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাভেট সিনড্রোম ছাড়াও অনেক স্নায়বিক রোগ যেমন—মৃগীরোগ, স্ট্রোক, এনসেফালাইটিস, মাইগ্রেন, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস— গরমের কারণে বাড়তে পারে।
২০০৩ সালে ইউরোপের তীব্র তাপপ্রবাহের সময় দেখা গিয়েছিল, অতিরিক্ত মৃত্যুর ৭% ছিল স্নায়বিক সমস্যার কারণে। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যেও একই ধরনের পরিস্থিতি হয়েছিল।
তাপ কিভাবে প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কে?
মস্তিষ্ক নিজেও তাপ তৈরি করে, তাই অতিরিক্ত গরমে সেটিকে ঠাণ্ডা রাখতে শরীরকে বেশি কাজ করতে হয়। আমাদের মস্তিষ্কের কোষ ও রাসায়নিক বার্তা আদান-প্রদানকারী অণুগুলো তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে কাজ করে।
অতিরিক্ত গরমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যেতে পারে, মেজাজ খারাপ হতে পারে এবং মানসিক সমস্যা বাড়তে পারে। মৃগীরোগ বা অন্যান্য স্নায়বিক রোগে যারা ভুগছেন, তারা গরমে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বয়স্ক ও দরিদ্র মানুষের ঝুঁকি বেশি
ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) আক্রান্ত বয়স্ক মানুষ তাপপ্রবাহে বেশি আক্রান্ত হন, কারণ তারা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কম সক্ষম। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ ঠাণ্ডা রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে পারেন না, ফলে তারাও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
গর্ভাবস্থায় তাপের প্রভাব:
গবেষণায় দেখা গেছে, তাপপ্রবাহ অকালপ্রসবের ঝুঁকি ২৬% পর্যন্ত বাড়াতে পারে, যা শিশুর স্নায়বিক গঠনে প্রভাব ফেলে।
ভবিষ্যতের ভাবনা
তাপ বাড়ার ফলে মস্তিষ্কের সুরক্ষার প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যেতে পারে, ফলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে। মশাবাহিত রোগ যেমন— জিকা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াও গরমে বেশি ছড়ায় এবং এসব ভাইরাস মস্তিষ্কে আঘাত করতে পারে।
সমাধানের উপায় কী ?
ঝুঁকিপূর্ণদের চিহ্নিত করতে হবে (বয়স্ক, শিশু, গর্ভবতী, দরিদ্র)। সতর্কবার্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ বা সহায়তাব্যবস্থাও চালু করা যেতে পারে। বিশ্বজুড়ে গরমের প্রকোপ বাড়ছে। উষ্ণ পৃথিবী এখন বাস্তব। আমাদের মস্তিষ্ক, শরীর ও জীবনযাত্রা সব কিছুই তাপের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।


