সাইবার ক্রাইম বীমা খাতের জন্য অশনি সংকেত
পপুলার লাইফের সিইওর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি, থানায় জিডি
জিনান মাহমুদ:
দিন দিন বাড়ছে সাইবার অপরাধ। বীমা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে টার্গেট করে ভুয়া আইডি দিয়ে চলছে বুলিং আর মিথ্যাচার। আর এধরণের কর্মকান্ড বীমা খাতে জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও বি এম ইউসুফ আলীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার করছে পরিচয়হীন ব্যক্তি- এমন অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়েছে। আজ রাজধানীর মতিঝিল থানায় এই জিডি করেন পপুলার লাইফের কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান।
আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত জিডিতে উল্লেখ করা হয়, পপুলার লাইফের সিইও বি এম ইউসুফ আলীর নামে কোন ফেসবুক আইডি নেই। ষড়যন্ত্রকারী, দুষ্টচক্র ও শত্রুপক্ষ BM Yousuf Ali, Link- https://www.facebook.com/share/1Eu7Lolje3/?mibextid wwXIfr ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সিইও এবং তার পরিবারের সদস্যদের ছবি এডিট করে ভুয়া ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ভুয়া বিষয় না জেনেই উৎসুক লোকজন শেয়ার করছে। এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচালিত ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন এডিট করা ছবি আপলোড করায়- পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিইও বি এম ইউসুফ আলী এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একইসঙ্গে এই ঘটনায় ব্যাপক মানহানী ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘‘পরিচয়হীন ব্যক্তির ভুয়া ফেসবুক আইডি ও বে-আইনী কর্মকান্ড বিষয়ে সিইও বি এম ইউসুফ আলীকে জানালে তিনি হতভম্ব হন। ভবিষৎতের জন্য এ বিষয় সাধারণ ডায়রি করা প্রয়োজন।’’
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া ও নকল আইডি সত্যিই উদ্বেগজনক। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ভুয়া বা নকল আইডির সংখ্যা বাড়ছে। অপরাধীরা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্ন করছে। ফেসবুকের যে কোনো ফেক আইডির বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের কাছে রিপোর্ট করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। সাইবার ক্রাইম দমনে পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ভুয়া ফেসবুক আইডি শনাক্ত করে ও এর পেছনের ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএম ইউসুফ আলী অর্থবাংলাকে বলেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল মিডিয়ার মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে’র পরিবেশকে ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। এর ফলে সমাজে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত হয়রানি বাড়ছে- তেমনি অন্যদিকে ব্যপকভাবে সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুচক্রি মহল দীর্ঘ সময় পপুলার লাইফের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করছে। এ নিয়ে একাধিকবার জিডি করা হয়েছে।
এধরণের সাইবার ক্রাইম বিব্রতকর ও বীমা খাতের জন্য অশনি সংকেত উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার, গুজবসহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এর লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে পুরো জাতিকে চরম খেসারত দিতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পপুলার লাইফকে নিয়ে অশ্লীল অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও নোংরামি বন্ধ না হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এধরণের বিভ্রান্তি এড়াতে গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের ফেইক আইডি থেকে সাবধান ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান বিএম ইউসুফ আলী।
সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার বাড়ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ মেম্বার এবং জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এস এম নুরুজ্জামান অর্থবাংলাকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেহেতু বন্ধ করা সম্ভব নয়, তাই সরকারের পক্ষ থেকে এর নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা বলেন, শুধু ঢাকাতেই সাইবার ক্রাইমের যতো অভিযোগ আমরা পাই তার বেশিভাগ ফেসবুক সম্পর্কিত। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিটিটিসি কাজ করছে। ফেক আইডিটির সম্পূর্ণ প্রোফাইল লিংকসহ স্ক্রিনশট নিয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়। অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে বিচারের আওতায় আসতে হবে।



