down of head

মার্কা এখন শুধু প্রতীক নয়, রাজনৈতিক বিনোদনের নতুন ব্র্যান্ড : জিল্লুর রহমান

মার্কা এখন প্রতীক হয়ে উঠেছে। কারণ সম্ভবত শুনতে ভালো লাগে। তবে শুধু শুনে ভালো লাগায় নয়। প্রতীক হয়ে উঠেছে একেকটা রাজনৈতিক ব্র্যান্ড।

যার পেছনে আছে স্ট্র্যাটেজি মনস্তত্ব আর গণ মানুষকে প্রভাবিত করবার নীরব যুদ্ধ।
এসব কথা বলেন টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক জিল্লুর রহমান।

বাংলাদেশের রাজনীতি একসময় ছিল আদর্শ মতবাদ আর সংগ্রামের। এখন যেন রাজনীতি হয়ে উঠেছে ব্যান্ডিংয়ের এক বিরাট মঞ্চ, যেখানে আদর্শের চেয়ে প্রতীকের সাউন্ড বেশি জরুরি। ঠিক যেমন সিনেমা হলের টয়লেট প্রখ্যালন কক্ষ থেকে ওয়াশরুম হয়ে যায়। কারণ ওয়াশরুম শুনতে ভালো লাগে বলেন জিল্লুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, এই ব্র্যান্ড রাজনীতির তাজা উদাহরণ কাঁঠাল। এক কমিশনার প্রার্থী কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে কাঁঠাল মুড়ি বিলি করলেন ভোটের সকালে।

কাঁঠাল মুড়ি খেয়ে ভোটাররা গোপনে ভোট দিতে গেলেন আর জিতলেন সেই কাঁঠাল মার্কার প্রার্থী। নির্বাচনী রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট যদি মুড়ি কাঁঠালের মাধ্যমে হয়, তাহলে ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব বুঝে নিতে হয় নতুন চোখে। হাতি মার্কা প্রার্থী তো আর সকাল সকাল কারো ঘরে হাতি পাঠাতে পারেন না।
ব্র্যান্ডিংয়ের হাওয়ায় এখন ঢেউ তুলছে শাপলা। জাতীয় নাগরিক পার্টি চাইছে জাতীয় ফুল শাপলাকে দলীয় প্রতীক হিসেবে, সঙ্গে রেখেছে কলম ও মোবাইল।

কিন্তু জনদৃষ্টি আটকে আছে শুধুই শাপলায়। এ যেন প্রতীক নয়, রাজনীতির নতুন রঙিন ফুল। অথচ এই শাপলা নিয়ে আছে ইতিহাস, আছে বিতর্ক।

জিল্লুর রহমান বলেন, একসময় মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য শাপলা চেয়েছিল কিন্তু পায়নি। এখন এনসিপি চাইছে তাই জোর আলোচনা। কেউ বলছেন এটা বিজেপির পদ্মফুল মার্কার অনুসরণ, কেউ বলছেন শাপলা তো জাতীয় ফুল। প্রতীকের এই লড়াই শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বজুড়ে এক ধরনের পলিটিক্যাল ইকোনমি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকানদের প্রতীক হাতি, ডেমোক্রেটদের গাধা। ইতিহাসের মজা হলো দুটোই এসেছে ব্যঙ্গচিত্র থেকে। এখন এই দুই প্রাণী বোঝা টানে কিন্তু একসঙ্গে নির্বাচনও টানে। ভারতে প্রতীক নিয়ে বিতর্ক নেই বললেই চলে। পদ্মা, পাঞ্জা, কাঁচতে, চোরাফুল—সবই রাজনৈতিক চেতনার ব্র্যান্ড হয়ে গেছে।

জিল্লুর রহমান আরো বলেন, বড় দলের বাইরেও আছে বেকারদের জন্য পার্টি, ইনসাফ পার্টি, পাঠা পার্টি, আজাদী পার্টি, শান্তির পার্টি, যেন নাম শুনেই বোঝা যায়, সবাই কারো না কারো দাবি আদায়ের ছলে ভোটটার্মের খেলায় নেমেছে। এসব দলের ভেতর কেউ শূন্য ঘরে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। কেউ ফেসবুক লাইভে নিজেরা নিজেদের প্রেস কনফারেন্স করে। অথচ বাস্তবে লোকজন জানেই না পাশের বাসায় একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় আছে। এই বাস্তবতা যতই হাস্যকর মনে হোক, এটি আমাদের রাজনীতির নতুন রূপ।

প্রতীক এখন শুধু ভোটে ব্যবহৃত একখানা চিহ্ন নয়। এটি একটি বেঁচে থাকার কৌশল। ক্ষমতার কল্পনা প্রবণ মাধ্যম। কেউ মার্কা চায় খাদ্য নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। কেউ মার্কা দিয়ে ভবিষ্যতের কনফিডেন্স তৈরি করে। মার্কা এখন শুধু প্রতীক নয়, এটি রাজনৈতিক বিনোদনের নতুন ব্র্যান্ড। এটি এমন এক চাবিকাঠি, যার মাধ্যমে অনেকেই ঢুকতে চান রাজনীতির ফ্ল্যাটে। যদিও সেই ফ্ল্যাটে এখন জানালা নেই। মার্কা ছাড়া দল এখনো দল হয়ে ওঠে না। আর প্রতীক পেলে যেন জার্সি পেয়ে যায় খেলোয়াড়। কিন্তু মাঠ কোথায়? সেটি এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দামামা বাজছে। শাপলা, কাঠাল, কলম, মোবাইল, বন্দুক সব ব্র্যান্ডিং প্রস্তুত। তবে একটা সতর্কতা থেকেই যায়। মার্কা দিয়ে শুরু হলেও শেষটা যেন শুধু প্রতীকে না আটকে যায়।

আদর্শ কার্যক্রম আর গণসংযোগী শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে বা বদলাতেও পারে কিন্তু একবার যদি জনগণের মধ্যে বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন তাহলে, সেটাই হবে রাজনীতির আসল ব্র্যান্ড। এখন দেখা যাক কে কতটা সফল হন এই মার্কা যুদ্ধে।

সম্পর্কিত খবর