কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা গরু ও অসুস্থ গরু চেনার উপায়
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে পশুর হাট।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট ছোট খামার থেকে গরু শহরের হাটে আসতে শুরু করেছে। মানুষজন নিজের পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে হাটে হাটে ঘুরছেন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে দারুণ উদ্দীপনা।
এই সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি অধিক লাভের আশায় গরুকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করে হাটে তুলছেন। এসব গরুকে মোটাতাজা করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডেক্সামেথাসন, ডেকাসন, ওরাডেক্সন, প্রেডনিসোলন, ট্রেনবোলন, প্রোজেস্টিন ও টেস্টোস্টেরন হরমোন জাতীয় স্টেরয়েড ওষুধ।
এই গরুর মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, হজমজনিত সমস্যা, মূত্রনালী ও লিভারের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ও বুদ্ধিবিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মৎস্য খাদ্য ও পশু খাদ্য আইন ২০১০ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পশুকে মোটাতাজা করতে অ্যান্টিবায়োটিক বা গ্রোথ হরমোন ব্যবহার প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বাস্তবে এ বিষয়টা কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না।
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা গরু চেনার উপায় সর্ম্পকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান জানান,
১. এই গরু নড়াচড়া কম করবে, শরীরে হাত দিলে খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাবে না।
২. দেহের তাপমাত্রা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হবে।
৩. গরু চটপটে দেখাবে না এবং বাইরের শব্দের প্রতি প্রতিক্রিয়া কম দেখাবে।
৪. মুখের উপরের অংশ (মাজল) শুকনো থাকবে
৫. শরীরে পানি জমে থাকবে এবং কোনো স্থানে চাপ দিলে ডেবে যাবে বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে বেশি সময় নিবে।
৬. খাবার দিলে আগ্রহ কম থাকবে, গ্রহণের প্রতিক্রিয়া কম দেখাবে।
৭. চোখ লালচে বা অস্বাভাবিক দেখাবে।
৮. লেজ নড়াচড়া কম করবে।
৯. মুখ দিয়ে লালা ঝরবে এবং চামড়া খসখসে ও রুক্ষ দেখাবে।
১০. মাংসে পানি জমার কারণে মাংস অতিরিক্ত নরম দেখাবে।
অসুস্থ গরু চেনার উপায় সর্ম্পকে তিনি আরও জানান,
১. গরুটি অতিরিক্ত অসুস্থ হলে শুয়ে থাকবে বা দাঁড়ালেও এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকবে।
২. দেহের তাপমাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হবে।
৩. মাজল শুকনো থাকবে।
৪. চামড়া উষ্কখুষ্কু দেখাবে।
৫. শরীরের প্রাকৃতিক রন্ধ্রগুলো পরিষ্কার থাকবে না (যেমন: নাক, মুখ, চোখ, পায়খানা)।
৬. খাবার দিলে খাওয়ার প্রতি আগ্রহ দেখাবে না।
৭. জাবর কাটবে না।


