তামাকজাত পণ্য সেবনে প্রতি বছর প্রাণ হারান ৮০ লাখ মানুষ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৮৭ সালে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস চালু করে | বিশ্বে ১২১ কোটি মানুষ নিয়মিত তামাক ও তামাকজাত পণ্য সেবণ করে। যার ফলে প্রতিবছর ৮০ লাখ মানুষ মারা যায় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। যার মধ্যে ১৩ লাখ মানুষ নিষ্ক্রিয় ধূমপানের শিকার।
প্রতি বছর ৩১ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস। তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যুহার কমানো এবং তামাকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালে দিবসটি চালু করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেইসঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন প্রণয়ন, তা বাস্তবায়নে সরকারকে উৎসাহিত করা এবং তরুণদের তামাক থেকে দূরে রাখাও এ দিবস পালনের অন্যতম লক্ষ্য।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ওপর শিল্প কারখানার কূটকৌশল উন্মোচণ করি।’ বাংলাদেশে এ দিবসের প্রতিপাদ্য, ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’।
কানাডাভিত্তিক ‘অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথ’ (এএসএইচ কানাডা) এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনো বিশ্বে ১২১ কোটি মানুষ নিয়মিত তামাক ও তামাকজাত পণ্য সেবণ করে। যার ফলে প্রতি বছর ৮০ লাখ মানুষ মারা যান বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে ১৩ লাখ মানুষ নিষ্ক্রিয় ধূমপানের শিকার।
যদিও ২০২৫ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের আওতায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তামাক নিয়ন্ত্রণ সনদে ১৬৮টি দেশ সই করেছিল। এতে, ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধূমপান ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালে এই লক্ষ্যপূরণের সময়সীমা আরো পাঁচ বছর বাড়ানো হয়। কারণ, নানা সংকটে অনেক দেশ এ–সংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থ ও মনোযোগ দিতে পারেনি।
করোনা মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের নানা দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। এসব বাধার কারণে অন্তত ৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ধূমপান ছাড়ার সুযোগ হারিয়েছে।
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য বহুমুখী সংকট তৈরি করেছে। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে, যার মধ্যে ১৮ শতাংশ ধূমপান আর ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন যেমন: জর্দা, খৈনি, গুল, সাদাপাতার মতো তামাকজাত দ্রব্য সেবন করে। অন্যদিকে ১৩-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক ব্যবহার করছে (গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৩), যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করছে।
তামাকের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান মানবদেহের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তামাক ফুসফুস, মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালি, যকৃত ও প্যানক্রিয়াসে ক্যান্সার সৃষ্টি, ধমনিকে সরু করে রক্তচাপ বাড়ায়। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন তামাক ব্যবহারে ক্রনিক ব্রংকাইটিস ও এমফাইসেমা দেখা দেয়; পুরুষ ও নারী উভয়ের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া, যারা নিজেরা ধূমপান করেন না, কিন্তু ধূমপায়ীর আশপাশে থাকেন, তারা ‘প্যাসিভ স্মোকার’ হিসেবে তামাকের ক্ষতির শিকার হন।
তামাকের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয় নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নৈতিক লড়াইও। তামাক নিয়ন্ত্রণে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিষেষজ্ঞরা। এসব পদক্ষেপের মধ্যে তামাক পণ্যের ওপর কর বাড়ানো ও ধূমপান নিষিদ্ধকরণ অন্যতম।


