চীন থেকে ঋণ নেয়ার ২০ দেশের তালিকায় ১ পাকিস্তান ৭ নম্বরে বাংলাদেশ
বিশ্ব ব্যাংক সম্প্রতি চীন থেকে বিভিন্ন দেশের ঋণ নেয়ার একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। তথ্য অনুযায়ি চীন থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। তাদের ঋণের পরিমাণ ২৬.৬ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণ পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণের ৩০ শতাংশ। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগীতার আওতায় এই ঋণকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পতনের অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করেণ পাকিস্তানের অনেক অর্থনীতিবিদ।
বাংলাদেশ চীনের ঋণের তালিকায় রয়েছে ৭ নম্বরে । বাংলাদেশ চীন থেকে ঋণ নিয়েছে ৬.১ বিলিয়ন ডলার। বেশিরভাগ ঋণই দেশের অবকাঠামো খাতে ব্যায় করা হচ্ছে। চীনের এই ঋণ নিয়েও বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শী জিনপিং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছিল।
চীনের থেকে ঋণ নেয়া প্রধান ২০টি দেশ হলো, এঙ্গোলার ঋণের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার। শ্রীলংকা ৮.৯,ইথিওপিয়া, ৬.৮, জাম্বিয়া, ৬.১, লাওস, ৫.৩, মিশর, ৫.২, নাইজেরিয়া, ৪.৩, কম্বোডিয়া, ৪, বেলারুশ ৩.৯. ইকুয়েডর, ৪.১ আইভরি, ৩.৯. ক্যামেরুন, ৩.৮, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩.৪, কংগো৩.৪, ব্রাজিল ৩.৪ মঙ্গোলিয়া, ৩ ও আর্জেন্টিনা ২.৯৬ বিলিয়ন ডলার।
চীনের এই ঋণকে বিশ্বব্যাপি ঋণের ফাঁদ হিসাবেই উল্লেখ করা হয়। প্রথমতো, এই ঋণের শর্ত ও দুর্নীতির কারণে। শর্ত অনুযায়ি চীনের ঋণের বাস্তবায়িত প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী চীন থেকেই কিনতে হয়। দ্বিতীয়ত উচ্চ সুদ।
চীনের ঋণ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অধ্যাপক আরএম দেবনাথ বলেন, চীনের ঋণের বিষয়ে আমাদের সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে, একটি কেনিয়া ও অন্যটি শ্রীলংকা। কেনিয়ার একটি রেল প্রকল্পে ৯০ কেনিয়ার সরকার চীন থেকে ৯০ শতাংশ ঋণ নেয়। প্রকল্পের সমস্ত মালামাল দেয় চীনা রোড এন্ড ব্রিজ করপোরেশন। কিন্তু প্রকল্পটি লোকসানের মুখে পড়েছে। যা কেনিয়ার অর্থনীতিকেই ভেংগে দিয়েছে। তারমতে আমলারা ও রাজনীতিবিদরা চীনের ঋণের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী থাকে। কারণ এতে অনেক দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা থাকে।
চীনের ঋণ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ২০১৯ সালে বলেছিলেন, চীনের ঋণে দুর্নীতি জড়িত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সতর্কও করেছিলেন।
এন এস


