শিরোনাম
সৃজনশীল শিল্পে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রীটানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, ভর্তি ১৮৯৮২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যুটেকসই প্যাকেজিংয়ে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ শুরুআগাম শীতের সবজিতেও দামের উত্তাপডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৬৮৪প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বইআজ ৮১তম জাতিসংঘ দিবসবিশ্ববাজারে ৬ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দামইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে চাপে বাংলাদেশরাজধানীর যেসব এলাকায় ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না১৪১ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২১ হাজার ৯৩৩ যাত্রীআজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে মার্কেট-দোকানপাটভারত থেকে আনা ১৩৫ টন চালে মিলল বিষাক্ত উপাদান
down of head

স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কমিশন ফ্লোর প্রাইস আরোপ
অবশেষে এক বছর পর ৬ হাজার পয়েন্টের নিচে পুঁজিবাজারের সূচক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স গতকাল প্রায় এক বছর পর ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে আসে। শঙ্কা দেখা দেয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এ অবস্থায় দরপতন ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস আরোপের ঘোষণা দেয় পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

গত বছরের অক্টোবর থেকেই নিম্নমুখী রয়েছে পুঁজিবাজার। একের পর এক ইস্যুর কারণে ওই সময় থেকেই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজার ইস্যুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মতপার্থক্য এবং কভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন গত বছরের শেষ প্রান্তিকে বিনিয়োগকারীদের চিন্তিত করে তুলেছিল। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তোলে। বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ, টাকার অবমূল্যায়ন ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার তথ্য পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে আবারো আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পরই শেয়ার বিক্রির চাপে পয়েন্ট হারাতে শুরু করে সূচক। মাঝে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত দিন শেষে ৫৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ডিএসইএক্স, আগের কার্যদিবস শেষে যা ছিল ৬ হাজার ৩৮ পয়েন্টে। এর আগে গত বছরের ৭ জুন ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৯৭৬ পয়েন্টে।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ১৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের দিন শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩২০ পয়েন্টে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) শেয়ারের।

পুঁজিবাজারে বিক্রয়চাপ দেখা যাচ্ছে কয়েক দিন ধরেই। সর্বশেষ ঈদুল আজহার ছুটির পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে এ নিম্নমুখিতা বজায় রয়েছে। সর্বশেষ জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা এবং দেশব্যাপী লোডশেডিংয়ের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ঘোষণা আসার পর পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক আরো বেড়ে যায়। এ অবস্থায় যেকোনোভাবে শেয়ার বিক্রি করে পুঁজি উঠিয়ে নেয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দেখা যায় কোনো শেয়ার কেনার আদেশ এলেই একসঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী বিক্রির আদেশ দিতে থাকেন। এ ধরনের পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের কঠিন স্নায়ুচাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডিএসইএক্স গতকাল ৬ হাজার পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমার নিচে নেমে যাওয়ার কারণে সামনের সপ্তাহে সূচকে আরো বড় দরপতনের আশঙ্কা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় বিএসইসির পক্ষ থেকে শেয়ারদর নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে সাময়িকভাবে ফ্লোর প্রাইস আরোপের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুসারে, গতকাল ও এর আগের চারদিনের সমাপনী দরের গড়কে ফ্লোর প্রাইস ও সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। স্টক লভ্যাংশ কিংবা রাইট শেয়ার-সংক্রান্ত ইস্যুতে রেকর্ড ডেটের আগের তারিখের শেয়ারদরের ভিত্তিতে ফ্লোর প্রাইস হিসাব করা হবে। নতুন তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে প্রথম দিন লেনদেন শেষে যে সমাপনী দর দাঁড়াবে সেটিই ফ্লোর প্রাইস হিসেবে বিবেচিত হবে। সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা ফ্লোর প্রাইসের চেয়ে কম হতে পারবে না। সার্কিট ব্রেকারের নিম্নসীমা ২ শতাংশ বাতিল করে আগের মতো স্ল্যাবভিত্তিক সার্কিট ব্রেকার আরোপ করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকেই এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। এদিন লেনদেনের শুরুতে সূচক যে পয়েন্টে অবস্থান করবে তা এর নিচে আর নামতে পারবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন , বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করাই কমিশনের লক্ষ্য। বৈশ্বিক কিছু ঘটনার পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকট আমাদের ওপর চেপে বসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক নিয়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু গুজব তৈরি হয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে আগ্রাসী মনোভাব দেখা যাচ্ছে। এতে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দেশে এমন কোনো দুরবস্থা তৈরি হয়নি যে এভাবে আতঙ্কিত হতে হবে। এ অবস্থায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কমিশন ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছে।

ফ্লোর প্রাইস আরোপের কারণে পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সাময়িক সময়ের জন্য আরোপ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদেশীরা বেশকিছু শেয়ার বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ খুব বেশি নয়। দেশে ডলারের দাম বেশি হওয়ার কারণে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য এগিয়ে আসা উচিত।

ডিএসইতে গতকাল ৪৪২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৭৭৮ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৫টির, কমেছে ৩৩৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২২টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে কাগজ ও মুদ্রণ খাত। ১০ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জীবন বীমা খাত। মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৫ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল বিবিধ খাত আর ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। গতকাল পুঁজিবাজারের সব খাতেই ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৭ শতাংশ ঋণাত্মক রিটার্ন এসেছে কাগজ ও মুদ্রণ খাতে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১২৩ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১০ হাজার ৬৬৫ পয়েন্ট। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২০৪ পয়েন্ট কমে ১৭ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ১৭ হাজার ৮০২ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭টির, কমেছে ২৪০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১১ কোটি ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সম্পর্কিত খবর