প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা থাকলেও নিম্নমুখী ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি
চলতি মাসে খাদ্যশস্য রফতানি বাড়ার প্রত্যাশা ছিল ইউক্রেনের। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দিকেই এগোচ্ছে দেশটির কৃষি খাত। জুনের প্রথম ২২ দিনে ইউক্রেন ১১ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি কমেছে ৪৪ শতাংশ। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, রফতানীকৃত খাদ্যশস্যের মধ্যে ৯ লাখ ৭৮ হাজার টন ভুট্টা, ১ লাখ ৪ হাজার টন গম ও ২৪ হাজার টন যব।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে স্থল, জল ও আকাশপথে একযোগ সামরিক হামলা চালায় রাশিয়া। এরপর থেকেই ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানিতে ধস নামে। রুশ সৈন্যরা দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় সব সমুদ্রবন্দর অবরোধ করে রেখেছে। বন্দরগুলোয় মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগও উঠেছে। এতে সমুদ্রপথে খাদ্যশস্য রফতানি পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেন পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে রেল ও স্থলপথে খাদ্যশস্য রফতানি করছে। পাশাপাশি দানিয়ুব নদীবন্দরও রফতানির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়া হামলা চালানোর আগে ইউক্রেন প্রতি মাসে গড়ে ৬০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করত। কিন্তু হামলার পর তা কমে গড়ে ১০ লাখ টনে নেমেছে।
ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গম ও ভুট্টা রফতানিকারক দেশ। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো গুদামে থাকা শস্য দেশের বাইরে সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। মে মাসেই দেশটির রফতানি কমে ১৭ লাখ টনে নেমে গিয়েছিল।
এদিকে দেশটির রফতানিতে বিঘ্ন ঘটায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। খুব দ্রুত বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে খাদ্যশস্যের দাম। এতে আমদানিনির্ভর স্বল্প উন্নত দেশগুলোয় খাদ্যসংকট প্রকট আকার ধারণ করার উদ্বেগ আরো জোরদার হচ্ছে।



