জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমাল ওপেক প্লাস
জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাসের টেকনিক্যাল প্যানেল পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছে। জোটটির অনুষ্ঠেয় বৈঠক উপলক্ষে প্রকাশিত এনার্জি ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের পূর্বাভাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
গতকাল জোটের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির (জেটিসি) নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জ্বালানি বাজার উন্নয়ন পর্যালোচনা করা হয়েছে। মূলত ওপেক প্লাসের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠককে সামনে রেখেই জেটিসির বৈঠক বসে।
জেটিসির বাজার পর্যালোচনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল করে কমানো হয়েছে।
এনার্জি ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে বলা হয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পূর্বাভাসের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় চাহিদা পূর্বাভাস পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এদিকে গত মাসে ওপেকও জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি জোটটি এক প্রতিবেদনে জানায়, এপ্রিলের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদা দৈনিক ৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কমবে।
ওপেক প্লাসের অনুষ্ঠেয় বৈঠকে জোটটি মাসওয়ারি উত্তোলন বাড়ানোর আগের নীতিতেই অটল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোটটি এরই মধ্যে জুলাইয়ে উত্তোলন বাড়ানোর কোটা নির্ধারণ করেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বেশ কয়েকটি প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা রাশিয়ান জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে একমত। এর পরও ওপেক প্লাসের পরিকল্পনার চেয়ে বেশি উত্তোলন কোটা বাড়ানোর আগ্রহ নেই।
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণে দেশটিকে ওপেক প্লাসের জ্বালানি তেল উত্তোলন চুক্তি থেকে বাদ দেয়ার কথা ভাবছে ওপেকের বিভিন্ন সদস্য দেশ।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, রাশিয়াকে গ্রুপের চুক্তি থেকে বাদ দিলে অন্য সদস্য দেশগুলোর জন্য আরো বেশি মাত্রায় ও দ্রুতগতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হবে। যদিও জোটটির খুব কম সদস্যই আছে, যারা বর্তমান চুক্তি অনুসারে খুব দ্রুত উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে।
রাশিয়াকে গ্রুপ থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অথবা প্রতীকী পদক্ষেপ। কারণ বর্তমানে ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে অনেকেই রুশ জ্বালানি পণ্য প্রত্যাহার করছে। যদিও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও চীন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। বর্তমানেও এসব দেশ আমদানি অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে দেশীয় জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে রাশিয়ামুখী হয়ে উঠছে শ্রীলংকাও।
ওপেক প্লাসের চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসেই অন্যান্য সদস্য দেশের মতো জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর কথা রয়েছে রাশিয়ার। কিন্তু একের পর এক আমদানি প্রত্যাহারের কারণে চলতি বছর দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলন প্রায় ৮ শতাংশ কমতে পারে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ ওপেক বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি জ্বালানি তেল উত্তোলন আরো বেশি মাত্রায় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসোলিনের দাম কমিয়ে আনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে জোটটি।



