শিরোনাম
icon ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৮২ icon রিয়াদ-দাম্মামের ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন
down of head

অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিনিয়োগ আইডিএলসিকে সফল করেছে

১৯৯৪ সালে আইডিএলসিতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পদে যোগ দেন এম জামাল উদ্দিন। কোম্পানিটির অভ্যন্তরীণ কর্মীদের মধ্যে শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত হওয়া প্রথম নির্বাহী তিনি। এছাড়া আইডিএলসিতে ডিএমডি ও হেড অব বিজনেস, হেড অব করপোরেট ও স্ট্রাকচার্ড ফাইন্যান্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি আইডিএলসির যাত্রা ও এসএমই খাতে কোম্পানিটির নানা অবদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন বণিক বার্তার সঙ্গে।

আইডিএলসির যাত্রা শুরু হয়েছিল কীভাবে? কী ছিল উদ্দেশ্য? সেটি কতটা অর্জিত হয়েছে? অন্যান্য এনবিএফআই থেকে আইডিএলসির স্বাতন্ত্র্য কোথায়?

আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ১৯৮৫ সাল থেকে একটি লিজিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা করে। শুধু দীর্ঘমেয়াদি লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেও অর্থনীতির চাহিদা মোতাবেক দীর্ঘ ৩৭ বছরের পথচলায় দেশের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে করপোরেট লোন, এসএমই লোন, রিটেল লোন এবং ডিপোজিট—এ ক্ষেত্রগুলোতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এখন আইডিএলসির প্রায় ১ হাজার ৫৫০ নিবেদিত কর্মী কাজ করে চলেছেন দেশব্যাপী ৪০টি ব্রাঞ্চে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ গ্রাহককে আর্থিক পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বনিম্ন মন্দ ঋণের পরিমাণ বজায় রাখা, তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ে লোন প্রসেসিং করার সক্ষমতা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখা, পুঁজিবাজারের সব ক্ষেত্রে আধিপত্যসহ নানা সফলতা অর্জন আইডিএলসিকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে।

আইডিএলসি সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে থাকে এসএমই খাতে। তাদের পোর্টফোলিওতে এসএমই খাতের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। অন্যরা যেখানে পিছিয়ে সেখানে আইডিএলসি সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসেছে কোন প্রেরণায়?

এসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আইডিএলসি এ খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাদের পোর্টফোলিওর সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩৩ শতাংশ মূলধন বিনিয়োগ করেছে। আমরা জানি, এসএমই খাতে বিনিয়োগ অন্য যেকোনো খাতের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। গ্রাহকদের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে সেবা দিতে আইডিএলসি দেশব্যাপী প্রায় ৬০০ প্রতিনিধির মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে যা অন্যদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য।

আইডিএলসি এর দীর্ঘ এ পথচলায় সময়ের সঙ্গে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলেই আজ এসএমইর মতো একটি স্বল্প আয়ের খাতে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। আমাদের অটোমেটেড ক্রেডিট রেটিং সিস্টেম দিয়ে যাচাইকরণের ফলে লোন প্রদানের সিদ্ধান্ত দ্রুততর করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আইডিএলসি দেশজুড়ে ৪০টি ব্রাঞ্চের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

আইডিএলসি ভবিষ্যতে কোথায় নিজেদের দেখতে চায়, অর্থাৎ আইডিএলসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

আমাদের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলো হলো পোর্টফোলিও আকার বৃদ্ধি করা, কাস্টমারদের জন্য যুগোপযোগী ডিজিটাল পণ্য ও সেবা নিয়ে আসা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক পরিষেবার আওতায় এনে তাদের সঞ্চয় ও উদ্যোগ প্রবণতা সৃষ্টি করা, যা আইডিএলসির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।

শক্তিশালী ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা যেখানে কঠিন, সেখানে আইডিএলসির সফলতার পেছনে কোন বিষয়টি কাজ করছে?

আইডিএলসির সফলতার পেছনে সুশাসন, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পরিষদ, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিনিয়োগ ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।

ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিতে সময়ের সঙ্গে নিজেকে নতুন প্রযুক্তিতে খাপ খাইয়ে নেয়া আইডিএলসিকে সফল হতে সহায়তা করেছে।

বাংলাদেশে এনবিএফআই খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ কী? পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এনবিএফআই খাতটি অনেক বড় এবং আরো বড় হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে খাতটির সম্ভাবনা ব্যাপক থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি ধীর বলে অভিযোগ রয়েছে। কেন?

ব্যাংক এবং এনবিএফআই সেক্টরের নিয়ন্ত্রক একই হলেও দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য নীতিমালা ভিন্ন। আইডিএলসি ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আসছে। এ খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ব্যাংকগুলোর চেয়ে অধিক সুদহারে ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাংকের তুলনায় স্বল্প পরিমাণ শাখা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা। এছাড়া অধিক সুদহারের বিনিময়ে মূলধন সংগ্রহ করতে হয়। অন্যদিকে ব্যাংকগুলোয় সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা থাকলেও এনবিএফআইগুলোয় তা নেই। ফলে জনসাধারণ এনবিএফআইয়ের পণ্য বা সেবার চেয়ে খুব সহজেই ব্যাংকের সার্ভিস সম্পর্কে জানতে পারে।

নানামুখী সমস্যার পাশাপাশি এ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, শিল্পায়ন ও সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে এনবিএফআই সেক্টর ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে।

সম্পর্কিত খবর