ইইউ অঞ্চলে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতসহ অনুকূল আবহাওয়া উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
ইইউ অঞ্চলে খাদ্যশস্য বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কোসিরাল। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে ৩০ কোটি ৯৫ লাখ খাদ্যশস্য উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। গত মার্চে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ কোটি ৫৬ লাখ টনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে পূর্বাভাস বাড়ানো হলেও গত বছরের তুলনায় উৎপাদন নিম্নমুখী থাকবে। ওই সময় এ অঞ্চলে ৩১ কোটি ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল।
কোসিরাল জানায়, এ বছর মোট খাদ্যশস্যের মধ্যে ১৪ কোটি ৩০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে। এর আগের পূর্বাভাসে ১৪ কোটি ১৩ লাখ টন গম উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন নিম্নমুখী থাকবে। ওই বছর ১৪ কোটি ৩৯ লাখ টন গম উৎপাদন হয়েছিল। উপযুক্ত সময়ে স্পেনে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত কোসিরালকে পূর্বাভাস বাড়াতে সহায়তা করেছে।
এদিকে যব উৎপাদন কিছুটা বেড়ে ৬ কোটি টনে উন্নীত হতে পারে। গত বছর শস্যটির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৯৪ টন। অন্যদিকে গম ও যব উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হলেও কমানো হয়েছে ভুট্টার। ইইউ ও যুক্তরাজ্যে শস্যটির উৎপাদন ৬ কোটি ৬০ লাখ টনে নামতে পারে। আগের পূর্বাভাসে ৬ কোটি ৭৩ লাখ টন উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। গত বছর ৬ কোটি ৭২ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়েছিল।
চলতি বছর সরিষা উৎপাদন ১ কোটি ৯৫ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগের পূর্বাভাসে ১ কোটি ৯৩ লাখ টন সরিষা উৎপাদনের কথা বলা হয়েছিল। গত বছর এ অঞ্চলে ১ কোটি ৮৫ লাখ টন সরিষা উৎপাদন হয়েছিল।
সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ইউরোপিয়ান কমিশন জানায়, ইইউ অঞ্চলে আবাদযোগ্য ফসল উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তাবিত উদ্যোগ কৃষকদের ভুট্টা, সূর্যমুখী ও প্রোটিনসমৃদ্ধ শস্য আবাদে উৎসাহিত করছে। এ কারণে ইইউ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য ২০২২ সাল হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ভালো বছর। এ সময় খাদ্যশস্য ও তেলবীজ উৎপাদনে বড় প্রবৃদ্ধি আসতে পারে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে অনুকূল আবহাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কমিশনের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে ইইউ অঞ্চলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ২৯ কোটি ৭৭ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। জুনে চলতি বিপণন মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে খাদ্যশস্য রফতানি ১৪ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রফতানি বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে গম। চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত ৫৬ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে।
কমিশন জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরই আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে তেলবীজের দাম। সরিষা ও সূর্যমুখীর দাম টনপ্রতি ১ হাজার ডলারে উন্নীত হয়। তবে ইইউ অঞ্চলকে এজন্য শঙ্কিত হতে হবে না। কারণ এ অঞ্চলে তেলবীজের উৎপাদন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ কোটি ২ লাখ টনে।



