পাঁচ বছরে চা রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি চায় ভারত
আগামী পাঁচ বছরে চা রফতানিতে ব্যাপক প্রসার ঘটাতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলংকার পিছিয়ে পড়ার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে দেশটি। দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
বিশ্লেষকরা জানান, চা উৎপাদন ও রফতানিতে বিশ্ববাজারে বড় হিস্যা রয়েছে শ্রীলংকার। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দ্বীপদেশটি। ফলে চা রফতানিতে ব্যাপক মন্দা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলংকার ক্রেতারা ভারতের বাজারে ভিড়ছেন।
ভারতীর চা বোর্ডের প্রত্যাশা, তিন-পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটির চা রফতানি বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি কেজিতে উন্নীত হতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতের চা রফতানি ২৪ কোটি কেজিতে পৌঁছার সম্ভাবনাও দেখছে চা বোর্ড। বর্তমান বাজারে পানীয় পণ্যটির ব্যাপক চাহিদা রফতানি বাড়াতে সহায়তা করছে।
ভারতীয় চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ডেপুটি চেয়ারম্যান সৌরভ পাহারি বলেন, শ্রীলংকায় চলমান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক চায়ের বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা পূরণে ভারত বেশ ভালোই সক্ষম। চা খাতে আমরা রফতানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছি। পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা ৩০ কোটি কেজি চা রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে চায়ের গুণগতমান বড় ভূমিকা পালন করবে। চায়ের বাজারে আমরা কেনিয়া ও শ্রীলংকাকে বেশ ভালোভাবে টেক্কা দিতে চাই। বাজারে সরবরাহের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত উৎপাদন রয়েছে। ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন ও চা বোর্ডের আয়োজনে চা দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
২০২১ সালে ভারত প্রায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ কেজি চা রফতানি করেছিল। ওই বছর নানা প্রতিবন্ধকতায় দেশটির রফতানি ব্যাহত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সঙ্গে মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত জটিলতা, জাহাজ ভাড়া ও অন্যান্য চার্জ বৃদ্ধি এবং কনটেইনারের ব্যাপক সংকট। ২০১৯ সালে দেশটি ২৫ কোটি ৬০ লাখ টন চা রফতানি করেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ রফতানি।
সৌরভ পাহারি বলেন, উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশ এবং কানাডা ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর বাজার লক্ষ্য করেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এসব দেশে রফতানি বাড়ানোর জোর প্রচেষ্টা চলছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটলেই দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। তখন চা রফতানি শুধু মহামারীপূর্ব অবস্থায় নয়, বরং তার চেয়েও বেশি মাত্রায় বাড়বে।
শিল্প খাতটির সঙ্গে জড়িতরা মনে করছেন, শ্রীলংকায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারতের অর্থোডক্স চা উৎপাদকরা সুফল পাবেন। রফতানির পরিমাণ ও আয়—দুটোই বাড়বে। বিশেষ করে ইরাক, ইরান, কমনওয়েলথ ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস (প্রধানত রাশিয়া) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে রফতানি ব্যাপক বাড়তে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাজারে চায়ের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে শিল্প খাতটির সঙ্গে খুব কাছ থেকে কাজ করছে চা বোর্ড। উদ্দেশ্য যুবসমাজের মধ্যে চা আরো বেশি জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করে তোলা। এ লক্ষ্যে চা বোর্ড প্রচারণা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে চায়ের ব্যবহার অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা বোর্ডের।
ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন নয়নতারা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমানে শুধু মুনাফাই টেকসই চা খাতের পরিচয় বহন করে না। বরং অংশীদারদের কল্যাণও জরুরি। উৎপাদকদের জন্য পারিশ্রমিকবান্ধব চায়ের দাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসই চা খাতে অত্যন্ত জরুরি।



