চিনির রফতানি চুক্তি বাতিল করছে ব্রাজিলের মিলগুলো
ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন কলগুলো কিছু চিনির রফতানি চুক্তি বাতিল করে দিচ্ছে। বিপরীতে আখ থেকে ইথানল উৎপাদন বাড়াচ্ছে এসব কল। মূলত জ্বালানির দাম বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত লাভের আশায় চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চিনিকলগুলো। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান জানায়, ব্রাজিলের প্রায় সব কোম্পানিই চিনি রফতানির চুক্তি বাতিল করেছে। এ পর্যন্ত অন্তত দুই-চার লাখ টন অপরিশোধিত চিনির রফতানি চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইথানল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চুক্তি মোতাবেক উৎপাদিত আখ চিনিকলগুলো পৌঁছতে দেরি হওয়ায় চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে কোম্পানিগুলো।
ব্রাজিল মৌসুমের সেরা সময়টুকু প্রতি মাসে প্রায় ২২ লাখ টন চিনি রফতানি করে। কিন্তু এবার উৎপাদন ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। এতে বিশ্ববাজারে চিনির ঘাটতি প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্রাজিলের বেশির ভাগ মিলই নমনীয়। মিলগুলো চাইলেই চিনি থেকে সরে এসে ইথানল উৎপাদন করতে পারে। বর্তমানে ইথানলেই স্থানান্তরিত হচ্ছে মিলগুলো। জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে। চলতি বছর রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বাজার আরো বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে আখ থেকে জ্বালানি উৎপাদনই মিলগুলোর জন্য বেশি লাভজনক। ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র বলছে, গত মাসে ব্রাজিলে ইথানল বিক্রি ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
সম্প্রতি পণ্যবাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডাটাগ্রো ব্রাজিলের সেন্টার-সাউথ (সিএস) অঞ্চলে চিনি উৎপাদন পূর্বাভাস কমিয়ে আনে। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সিআইটিআই আইএসও ডাটাগ্রো সুগার কনফারেন্সে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিশ্লেষক প্লিনিও নাসটেরি বলেন, ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন কমে ৩ কোটি ২১ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। মার্চে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটি নয় লাখ টন কম।
নাসটেরি বলেন, আখ মাড়াই কমে যাওয়া চিনি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মার্চে দেয়া পূর্বাভাসে ডাটাগ্রো ৫৬ কোটি ২০ লাখ টন আখ মাড়াইয়ের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি দেয়া পূর্বাভাসে তা কমিয়ে ৫৫ কোটি ২০ লাখ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিছু আখক্ষেতে ফলন ভালো হয়নি। মাটির আর্দ্রতা নজিরবিহীনভাবে কমে গিয়েছে।
ডাটাগ্রো বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে থাইল্যান্ডে ১ কোটি ৩০ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে। ২০২১-২২ মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১ লাখ টন। অন্যদিকে ভারতে ৩ কোটি ৫০ লাখ টনেরও বেশি চিনি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।



