গ্যাসের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি বিটিএমএর
ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতে গ্যাসের ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন দাবি জানায় সংগঠনটি। এতে বলা হয়, এ ধরনের প্রস্তাব অবিবেচনাপ্রসূত। এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের ফলে প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে যে কার্যকর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের দিকে যাবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিটিএমএ জানায়, দেশীয় টেক্সটাইল খাতে বৃহদাকার স্পিনিং, উইভিং ও প্রসেসিং মিলগুলো মূলত ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে কাঁচামাল হিসেবে গ্যাসের ব্যবহার অন্যতম। ক্যাপটিভ জেনারেশন উৎসাহিত করতে প্রাথমিকভাবে অত্যন্ত নিম্নহারে গ্যাস ট্যারিফও নির্ধারণ করে সরকার। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে গ্যাস ট্যারিফ বিভিন্ন বাস্তবতায় একতরফাভাবে বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতগুলো ট্যারিফ বাড়ানোর নেতিবাচক দিক গ্রহণ করতে পারবে কিনা তা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। তা সত্ত্বেও বিটিএমএ সদস্যভুক্ত মিলগুলো গ্যাস ট্যারিফকে সমন্বয় করে ইয়ার্ন, ফ্যাব্রিক ও ফ্যাব্রিক প্রসেসিংকে একটি সহনীয় মাত্রায় রেখে ইয়ার্ন ও ফ্যাব্রিক সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু বিগত এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে ক্যাপটিভ পাওয়ার জেনারেশনের মাধ্যমে পরিচালিত মিলগুলোর উৎপাদন কার্যত বন্ধ।
বিটিএমএ জানায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গণশুনানির আয়োজন করে, যেখানে টেকনিক্যাল কমিটি কর্তৃক বিভিন্ন বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে গ্যাস ট্যারিফ ২০ শতাংশের মতো বাড়ানোর পক্ষে মত ব্যক্ত করা হয়। বিটিএমএ কর্তৃক বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরে ওই বৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক প্রমাণ করা হয়। তা সত্ত্বেও সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতি কিউবিক ঘনমিটার গ্যাসের গ্যাস ট্যারিফ ২৮ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়। এ পরিমাণ গ্যাসের ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে টেক্সটাইল সেক্টরের মিলগুলো তাদের তৈরি পণ্য বাজারজাত করতে পারবে কিনা তা বিবেচনার নেয়া হয়নি।
বিটিএমএ উল্লেখ করে, বর্তমানে প্রতি কেজি ৩০ কার্ডেড সুতা তৈরির উৎপাদন ব্যয় হচ্ছে কম-বেশি ৫ ডলার ২০ সেন্ট থেকে ৫ ডলার ৫০ সেন্টের মধ্যে। অন্যদিকে আমাদের প্রতিযোগী দেশে একই মানের সুতার রফতানি মূল্য ৪ ডলার ৭০ থেকে ৭৫ সেন্ট। ফলে গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি সুতার মূল্য অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ সেন্ট বাড়বে। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই সুতার বৈধ ও অবৈধ আমদানি বাড়বে। এর ধারাবাহিকতায় ডলারের ব্যয়ও বাড়বে, যা রিজার্ভকে সংকুচিত করবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিটিএমএ মনে করে এ ধরনের অবিবেচনাপ্রসূত প্রস্তাব বাংলাদেশকে আবারো সুতা ও বস্ত্রের জন্য পরনির্ভরশীল দেশে পরিণত করবে, যেমনটি হয়েছে শ্রীলংকায়। গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির
মাধ্যমে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রাকে অন্য দেশের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে কিনা, তা-ও দেখার অনুরোধ করা হয় বিটিএমএর পক্ষ থেকে।



