পায়রার ‘ভূয়া’ সনদে কুতুবদিয়ায় জেটি নির্মাণে জটিলতা

কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারকে অভিজ্ঞতার সনদ দেওয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (এলজিইডি) জেটি নির্মাণ প্রকল্পে। সম্প্রতি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ এমন একটি ‘ভূয়া’ সনদ ইস্যু করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে তদন্ত কমিটি।

খোঁজ নিয়ে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, গত বছরের ২৯ আগস্ট কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়ায় কক্সবাজার এলজিইডি কর্তৃপক্ষ একটি জেটি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। তখন মোট চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। দরপত্রের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করে শুধু এসএস রহমান নামে একটি প্রতিষ্ঠান। অন্যদের এসব যোগ্যতা না থাকায় টেন্ডার বাতিল করে আবারও ২২ ডিসেম্বর রি-টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

কিন্তু দেখা যায়, আগেরবার অংশ নিয়ে বাতিল হওয়া ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি কোম্পানি রি-টেন্ডারে নতুন অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করে, যা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। এ নিয়ে অন্য দরপত্র দাতারা অভিযোগ করলে এলজিইডি সচিবের নির্দেশে প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়, ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিডেট যে সনদটি দাখিল করেছে, তাতে স্পষ্ট যে ওই প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি। শুধুমাত্র জেটির অংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের এপ্রোজ রোড ও স্লোপ প্রটেকশনের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। কিন্তু এরপরও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ম্যাকের অনুকূলে সম্পন্নের সনদ দিয়েছে এবং দরপত্র মুল্যায়ন কমিটি, কুতুবদিয়া জেটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই সনদে উল্লেখিত সব কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে ধরে নিয়ে ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিডেটকে কাজ দিতে চাইছে।
ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিডেট এই প্রথম ‘ভুয়া’ অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে কাজ চাইছে তা নয়। এর আগেও ওই প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া সনদ ব্যবহার করার দায়ের দুই বছরের জন্য এলজিইডিতে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছিল।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের কাছে অভিযোগটি এসেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তদন্ত করে এ বিষয়ে আমাদেরকে প্রতিবেদন দিবে। ওই প্রতিবেদন দেখেই বুঝা যাবে প্রকৃত পক্ষে ম্যাক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিডেট পায়রা বন্দরের কাজের বিষয়ে যে অভিজ্ঞতার সনদ দাখিল করেছে তা সঠিক নাকি ভুয়া।

কুতুবদিয়া জেটি নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল মঞ্জুর মোঃ সাদিকও একই কথা জানিয়ে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।

এ প্রসঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পায়রা বন্দরে জেটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। কয়েকটি জেটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। সংযোগ সড়কসহ বেশ কিছু কাজ শেষ হতে আরও সময় লাগবে। এরমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ যদি কোন পক্ষকে সুবিধা দিতে ভূয়া বা উদ্দশ্যমূলক সনদ ইস্যু করে থাকে তবে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

 

সম্পর্কিত খবর