শিরোনাম
icon ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৮২ icon রিয়াদ-দাম্মামের ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন
down of head

বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ কভিড-পূর্বাবস্থায় ফিরেছে

কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবে ২০২০ সালজুড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভুগতে হয় বাংলাদেশকে। যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বা এফডিআই প্রবাহে। ২০১৯ সালের তুলনায় এফডিআই প্রবাহ কমে গিয়েছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০২১ সালেই নিম্নমুখী এ ধারা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালে এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের এফডিআই প্রবাহ কভিড-পূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে।

ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে বিনিয়োগকারী বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাংলাদেশে নিয়ে আসা অর্থসংক্রান্ত জরিপের ভিত্তিতেই এফডিআই প্রবাহের পরিসংখ্যান ও গতি-প্রকৃতির তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে নিজস্ব মূলধন (ইকুইটি ক্যাপিটাল), আয়ের পুনর্বিনিয়োগ (রিইনভেস্টেড আর্নিংস) ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ (ইন্ট্রাকোম্পানি লোন) এ তিন ভাগে এফডিআই প্রবাহ হিসাব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এফডিআই প্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আনা এফডিআই প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বিনিয়োগকারীদের ইকুইটি ক্যাপিটাল। যার পরিমাণ ছিল ১১৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ২০২০ সালে ইকুইটি ক্যাপিটাল প্রবাহ ছিল ৮৪ কোটি ২২ লাখ ডলার। এ হিসেবে ২০২১ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে ৪০ শতাংশের বেশি।

২০২১ সালে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ করা অর্থ প্রবাহ ছিল ১৫৬ কোটি ২২ লাখ ডলার। ২০২০ সালে যার পরিমাণ ছিল ১৫৬ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এ হিসেবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আয় থেকে পুনর্বিনিয়োগ কমেছে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ।

২০২১ সালে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ দাঁড়ায় ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। ২০২০ সালে যার পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার। এ হিসেবে গত বছর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ প্রবাহ বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

নিজস্ব মূলধন, আয়ের পুনর্বিনিয়োগ, ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ মিলিয়ে ২০২১ সালে দেশে আসা এফডিআই প্রবাহের নিট পরিমাণ ছিল ২৮৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। ২০২০ সালের তুলনায় যা ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সাল শেষে ওই বছরের নিট এফডিআই প্রবাহ ছিল ২৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ডলার। এ পরিসংখ্যানেই দেখা যাচ্ছে ২০২০ সালে কমে গিয়ে ২০২১ সালে কভিড-পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ।

কোন কোন খাতের মাধ্যমে ২০২১ সালে এফডিআই প্রবাহ বেড়েছে সে চিত্রও স্পষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে। প্রতিষ্ঠানটির খাতভিত্তিক গ্রস এফডিআই পরিসংখ্যানে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি প্রবাহ ছিল বস্ত্র ও পোশাক খাতে। এর পরই সবচেয়ে বেশি প্রবাহ ছিল এমন উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, গ্যাস এবং পেট্রোলিয়াম, নন-ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন, টেলিকমিউনিকেশন, ট্রেডিং, ফুড, নির্মাণ এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য।

যে দেশগুলো থেকে ২০২১ সালে এফডিআই প্রবাহ সবচেয়ে বেশি ছিল সে দেশগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবাহ আসা উৎস দেশ ছিল চীন। এছাড়া গ্রস এফডিআই প্রবাহ আসা উল্লেখযোগ্য অন্য দেশগুলো হলো সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, হংকং, নেদারল্যান্ডস, ভারত, নরওয়ে, শ্রীলংকা, জাপান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও মরিশাস।

বিনিয়োগ আকর্ষণে নিয়োজিত পোশাক কর্তৃপক্ষসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার আগে থেকেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য যে পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ আসা দরকার ছিল তা আসেনি। আরো অনেক তত্পরতা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন, যার ঘাটতি আছে। কভিড প্রেক্ষাপটে এখন আরো প্রস্তুতি নিয়ে পরিপূর্ণ একটি পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। কভিড-১৯-এর কারণে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। সেই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে কাজ করে যেতে হবে। কভিডের অভিঘাত কাটিয়ে বিদেশী বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে শুরু করলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম। তার পরও ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এফডিআই প্রবাহ বৃদ্ধিতে করণীয় সব বিষয়ে গুরুত্বসহকারে কার্যক্রম চলমান আছে। বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য বিদেশী বিনিয়োগের গুরুত্ব অনেক। মোট জিডিপির খুব সামান্য অংশজুড়ে রয়েছে বিদেশী বিনিয়োগ, যা বাংলাদেশের জন্য সুখকর নয়। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ দেখাতে এগিয়ে আসতে হবে। প্রস্তাবিত বেশকিছু বড় বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে প্রচারণামূলক কার্যক্রমও চলছে।

সম্পর্কিত খবর