সরকারি দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল
নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে পাইকারি বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। এক্ষেত্রে প্রতি লিটারে ৪-৫ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ফলে সরকার সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম কমালেও সেটির সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল আগের নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে ৮ টাকা কমিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয়েছে ৬ টাকা। দাম কমার ফলে বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৬০ টাকা।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, জেলার নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেল বেচাকেনা হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৬৫-১৬৮ টাকা। খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা দরে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া, ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সয়াবিনের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার তেলের আমদানি, বিপণন ও পরিশোধন পর্যায় থেকে ভ্যাটও কমায়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকারের এসব পদক্ষেপের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ মিল গেট থেকেই সরকারি দামের চেয়ে বেশিতে তাদের প্রতি লিটার তেল কিনতে হচ্ছে। যেমন খুশি তেমন দাম হাঁকছেন মিলমালিকরা। ফলে তারাও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন।
তারা জানান, মিল থেকে কোনো রেট দেয়া হচ্ছে না। ফলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিল থেকে বেশি দামে সয়াবিন কিনে বিক্রি করছেন। পাইকারদের দাবি, সরকার মিল গেটে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারপ্রতি ১৬০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও গত দুই সপ্তাহে কোনো মিল থেকে ওই দামে তেল সরবরাহ করা হয়নি। উল্টো মিল গেট থেকে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে মিল থেকে এক ট্রাক পণ্য আনার জন্য তিন-চারদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দিতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া। ফলে লোকসান এড়াতে তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৫ টাকা বেশি দামে সয়াবিন বিক্রি করছেন।
নিতাইগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী হাজী আহসান উল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সয়াবিনের ওপর ভ্যাট কমিয়েছে। কিন্তু এর সুফল পাইকার বা ব্যবসায়ীরা ভোগ করতে পারছেন না। একমাত্র সুবিধা নিচ্ছেন মিলমালিকরা।
প্রসঙ্গত, এর আগে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য ১৬৮ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৭৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সরকার। আর খোলা তেল লিটারপ্রতি ১৪৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।



