শিরোনাম
icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon পদ্মা অয়েলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
down of head

সূচক ও লেনদেন বাড়লেও গতি ফেরেনি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবসহ বেশ কয়েকটি ইস্যু বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এর জেরে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে বড় পতন হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ করতে হয়। সংস্থাটির নানাবিধ পদক্ষেপে আগের সপ্তাহেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল দেশের পুঁজিবাজার। যার প্রভাব দেখা গিয়েছে গত সপ্তাহেও। তবে এ সময়ে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন বাড়লেও স্থবিরতা কাটেনি। ধীরগতিতেই চলছে লেনদেন ও সূচকের উত্থান।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারের ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে বিএসইসির নেয়া পদক্ষেপের প্রভাব গত সপ্তাহেও দেখা গিয়েছে। তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের দর কমার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরামর্শ ও পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ বাজার উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার এসব পদক্ষেপে বাজারে যে উত্থান হওয়ার কথা ছিল, সেটি হয়নি। বাজারে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সার্বিক পদক্ষেপেও বিনিয়োগকারীদের মাঝে এখনো ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়নি। ফলে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৭৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ৬৬৮ পয়েন্টে। বাজার উত্থানে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে রেনাটা, বেক্সিমকো, স্কয়ার ফার্মা, পূবালী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম, ব্র্যাক ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার।

অন্য সূচকের মধ্যে ডিএসইর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৪২৫ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস প্রায় ১৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে।

গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে ডিএসইতে মোট ৩ হাজার ৮৮৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯৭২ কোটি টাকার। সেই হিসাবে সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ২ শতাংশের বেশি। তবে এ সময়ে দৈনিক লেনদেন বেড়েছে ২২ শতাংশের বেশি। গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড়ে ৯৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৭৯৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন বেড়েছে ১৭৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির খাতভিত্তিক লেনদেনে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ শতাংশ ছিল খাতটির দখলে। ১১ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১১ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে লেনদেন তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি খাত। পরের অবস্থানে থাকা বিবিধ খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১১ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ৭ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত।

গত সপ্তাহে প্রায় সব খাতেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। এরপরের অবস্থানে থাকা ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে রিটার্ন এসেছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আইটি খাতে রিটার্ন এসেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫৯টির, কমেছে ১০৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির। লেনদেন হয়নি পাঁচটির।

অন্যদিকে সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ১৯ হাজার ৮২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৯ হাজার ৫৬১ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে মোট লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ১১৩ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৪০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৪টির, কমেছে ৮৯টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির।

 

সম্পর্কিত খবর