শতভাগ বিক্রি দিয়ে শেষ হলো মৌসুম
নিলামে প্রায় সাড়ে চার লাখ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করে ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলো ছবি: নিজস্ব আলোকচিত্রী
চট্টগ্রামে শতভাগ বিক্রির মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ২০২১-২২ মৌসুমের চা নিলাম। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মৌসুমের শেষ মাসে দুটির পরিবর্তে একটি নিলামের আয়োজন করা হয়। ব্যাপক চাহিদার কারণে শেষ নিলামে বিপুল ক্রেতা সমাগম হয়। পুরনো মৌসুমের পাশাপাশি নতুন মৌসুমের চাও উত্তোলন করা হয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিলামে প্রায় সাড়ে চার লাখ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করে ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রস্তাব করা প্রায় সব চা-ই কিনে নেন ক্রেতারা। শেষ দিকে চায়ের সরবরাহ কমায় নিলামে চাহিদা অস্বাভাবিক বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
চা বোর্ডের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮ মার্চ ৪৪ ও ৪৫তম নিলাম একসঙ্গে আয়োজনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় চা বোর্ড। এর আগে ৭ মার্চ টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চা বোর্ডকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। ২১ মার্চ ৪৫তম নিলাম আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ৪৪তম নিলামের মধ্য দিয়েই মৌসুমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম নিলাম শেষ হলেও শ্রীমঙ্গলে চায়ের শেষ নিলাম (২২তম) অনুষ্ঠিত হবে ২৩ মার্চ।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বশেষ নিলামে পুরনো মৌসুমের ৪ হাজার ৫০৪ ব্যাগ ও নতুন মৌসুমের ১ হাজার ৬৮৮ ব্যাগ দানাদার চা এবং পুরনো মৌসুমের ২ হাজার ৪ ব্যাগ ও নতুন মৌসুমের ৪২ ব্যাগ গুঁড়ো চা উত্তোলন করা হয়। তবে চায়ের পরিমাণ কম থাকায় দুপুরের মধ্যেই নিলাম কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত দেশের প্রথম আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র চট্টগ্রামে অবস্থিত। ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্র উদ্বোধন হয়। এখানে নিলাম কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৪ মে। সাতটি ব্রোকার্স নিলামে অংশ নেয়। কিন্তু শুরু থেকেই শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে চায়ের সরবরাহ ছিল খুবই কম। চলতি নিলাম বর্ষে চট্টগ্রামে প্রায় ৮ কোটি ৯০ লাখ কেজি চা উত্তোলন হলেও শ্রীমঙ্গলের ২১তম নিলাম পর্যন্ত ২৪ লাখ কেজি চা বিক্রির জন্য সরবরাহ করেছে বাগানগুলো। সর্বশেষ ২২তম নিলাম পর্যন্ত ২৫ লাখ কেজি চা বিক্রি হতে পারে শ্রীমঙ্গল নিলামকেন্দ্রে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্রোকার্সের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অঞ্জন দেব বর্মণ বলেন, চলতি নিলাম বর্ষের শুরুতে চায়ের সরবরাহ ভালো ছিল। কিন্তু শেষ দিকে সরবরাহ অস্বাভাবিক কমে। এ কারণে একটি নিলাম কমিয়ে ৪৪তম নিলামে মৌসুম শেষ হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমায় অফিস-আদালতের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেয়ায় দেশের বাজারে চায়ের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে, বেড়েছে বিক্রিও। বাড়তি দামে চা কিনছেন ক্রেতারা।
চা খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে দেশে করোনাভাইরাসজনিত কারণে চায়ের চাহিদা কম ছিল। উৎপাদন বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কম থাকায় নিলামে চায়ের সরবরাহও কমে। তবে কভিডের সব ধরনের বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে পানীয় পণ্যটির চাহিদা বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে দাম আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


