চিলির তামা উত্তোলন খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলক দেশ চিলি। এক দশক ধরে দেশটির জানুয়ারি মাসের উত্তোলন নিম্নমুখী। তবে আগামী বছর থেকে এ নিম্নমুখিতা কাটবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। খবর মাইনিং ডটকম।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্বের শীর্ষ তামা সরবরাহকারী দেশটির উত্তোলন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া এক মাসের ব্যবধানে উত্তোলন কমেছে ১৫ শতাংশ। মূলত নিম্নমানের আকরিক ও পানি সংকট উত্তোলন হ্রাসে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান কোডেলকো ও অ্যান্টোফাগাস্তার সাবেক প্রধান নির্বাহী দিয়েগো হারনান্দেজ।
চলতি বছরের বাকি সময়গুলোয় উত্তোলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে জানুয়ারির উত্তোলন ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। হারনান্দেজ বলেন, বর্তমানে বিশ্ববাজারে তামার মজুদ সংকট তীব্র। এ কারণে দামও বেশি। তার ওপর যোগ হয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। রাশিয়া দেশটিতে আক্রমণের পরই ধাতুটির বাজারদর লাফিয়ে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চিলি উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হলে তা বাজারকে স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী বছর থেকে চিলির টেক রিসোর্সেস লিমিটেড তামা উত্তোলন ও পরিশোধন কার্যক্রম বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটি তামা খাতে বড় আকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সম্প্রতি এ লক্ষ্যে ছোটখাটো বিনিয়োগও করা হয়েছে।
উড ম্যাকেনজির প্রাক্কলনে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি মজুদাগার ও ট্রান্সমিশন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চার্জিং অবকাঠামোয় তামার চাহিদা লাফিয়ে বাড়ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এসব খাতে ধাতুটির চাহিদা ৮৬ লাখ টনে পৌঁছবে, যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। ফলে নতুন সরবরাহের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা তামা খাতে অর্থ লগ্নি করতে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করছেন। কারণ গত দশকে বিনিয়োগ ও চাহিদায় যে সংঘাত দেখা দিয়েছিল, তাতে বিপদে পড়তে হয় বিনিয়োগকারীদের। দাম কমে যাওয়ায় বড় আকার ধারণ করে লোকসানের অংক।
থার্ড এভিনিউ ভ্যালু স্ট্র্যাটেজি পোর্টফোলিওর ম্যানেজার ম্যাথিউ ফাইন বলেন, বিশ্ববাজারে তামার তীব্র সংকট যে অশনিসংকেত বয়ে আনছে, তা বুঝতে বিশ্বের অনেক সময় লেগে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তামার সরবরাহ সংকটের পূর্বাভাস বাজার পরিস্থিতিকে তুলনামূলক সংকুচিত করে তুলছে। তলানিতে ঠেকছে ধাতুটির বৈশ্বিক মজুদও। অন্যদিকে দু-তিন বছর ধরেই এটির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। ফাইন বলেন, বর্তমানে তামার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদায় সাড়া দেয়া বড় চ্যালেঞ্জ। একটি নতুন তামা খনি তৈরি করতে প্রায় ১০ বছর লেগে যায়। এছাড়া বিদ্যমান একটি খনি সম্প্রসারণ করতে সময় লাগে এক বছরেরও বেশি।



