দুদিন পর আবারো ছন্দপতন পুঁজিবাজারে
চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় ও তৃতীয় কার্যদিবসে আগের দুদিনের হারানো সূচক কিছুটা ফিরলেও গতকাল আবারো বড় পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ ও চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের বড় পতনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স পয়েন্ট হারিয়েছিল ২৭২। পরে গত সোম ও মঙ্গলবারের উত্থানে ৭৮ পয়েন্ট যোগ হয়েছিল সূচকটিতে। কিন্তু পরের কার্যদিবসেই গতকাল এই ধারার ছন্দপতন হয়েছে। একই সঙ্গে এদিন স্টক এক্সচেঞ্জটিতে প্রায় আড়াই মাসের সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) এদিন বড় পতন হয়েছে ও লেনদেন হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচকটি পয়েন্ট হারায় ৫৯, যা বেলা ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ৮৩ পয়েন্ট কমে যায়। পরে সেই ব্যবধান কিছুটা কমে সূচকটি ৫৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৬ হাজার ৭০০ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ এদিন ১৯ পয়েন্ট এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১০ পয়েন্ট হারিয়েছে। দিন শেষে সূচক দুটির অবস্থান দাঁড়ায় যথাক্রমে ২৪৭০ ও ১৪৪৩ পয়েন্ট।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৫৮টির, অন্যদিকে কমেছে ২৮৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টি সিকিউরিটিজের বাজারমূল্য। এদিন স্টক এক্সচেঞ্জটিতে টাকার পরিমাণে সিকিউরিটিজ লেনদেন ২ মাস ১১ দিন বা ৫০ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। গতকাল ডিএসইতে মোট ৬৫৬ কোটি ৬ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবসে এ লেনদেন ছিল ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর আগে গত ডিসেম্বরের ২১ তারিখ স্টক এক্সচেঞ্জটিতে এর থেকে কম ৬৫২ কোটি ১ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছিল।
গতকাল শুধু জীবন বীমা খাত থেকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ পজিটিভ রিটার্ন এসেছে। এছাড়া বাকি সব খাত থেকেই নেগেটিভ রিটার্ন হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি ১ দশমিক ৯০ শতাংশ নেগেটিভ রিটার্ন এসেছে সিরামিক খাত থেকে। আর সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ নেগেটিভ রিটার্ন এসেছে বিবিধ খাত থেকে। একক কোম্পানির বিবেচনায় গতকাল সব থেকে বেশি দর হারিয়েছে এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান। ফান্ডটির গতকাল ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৯০ পয়সা বা ১০ শতাংশ।
ডিএসইতে গতকাল নেগেটিভ রিটার্ন দেয়া শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটি শেয়ারদর হারিয়েছে ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে হা-ওয়েল টেক্সটাইল (বিডি) লিমিটেডের ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, হামিদ ফ্যাব্রিকস লিমিটেডের ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আমান ফিড লিমিটেডের ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, এপেক্স ফুডস লিমিটেডের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের ৪ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেডের শেয়ারদর ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে সিএসইতে গতকাল প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৭২ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। আর সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ১২১ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৪৪টির, কমেছে ২১৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৫টির বাজারদর। সিএসইতে এদিন মোট ২৪ কোটি ৮১ লাখ ৭ হাজার ৭৭৪ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। যা আগের কার্যদিবসের থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৪ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৮ টাকার সিকিউরিটিজ।



