দুবাইয়ে সিরিঞ্জ রফতানি করবে জেএমআই
যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, নেপালের পর এবার দুবাই রফতানি হচ্ছে জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের (জেএসএমডিএল) উৎপাদিত সিরিঞ্জ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে মোট সাড়ে চার কোটি পিস অটো ডিজেবল (এডি) সিরিঞ্জ রফতানি করবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুবাইয়ে সিরিঞ্জ রফতানি করার জন্য জাতিসংঘের শিশু উন্নয়ন তহবিলের কাছ থেকে (ইউনিসেফ) ক্রয়াদেশ পেয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস। এছাড়া ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সিরিঞ্জ সরবরাহ করতে জেএমআইকে চাহিদাপত্রও দিয়েছে সংস্থাটি।
করোনার টিকা দেয়ার জন্য ব্যবহূত এডি সিরিঞ্জ এক ধরনের বিশেষায়িত পণ্য, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পিকিউএস সনদ নিয়ে বিশ্বের অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে। জেএসএমডিএলের কর্মকর্তারা জানান, দেশের চাহিদা মিটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে সিরিঞ্জ রফতানি করছে তারা। করোনা সংক্রমণের ফলে টিকাদানে ব্যবহূত বিশেষ ধরনের অটোডিজেবল সিরিঞ্জের (০.৫ এমএল) চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই এ ধরনের সিরিঞ্জের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোয় প্রায় সোয়া পাঁচ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে ০.৫ এমএল অটোডিজেবল সিরিঞ্জের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
জেএমআই সিরিঞ্জেস পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৩ সালে। প্রতিষ্ঠানটিতে জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান নিপ্রো করপোরেশনের বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সাল থেকে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) নিরবচ্ছিন্নভাবে সিরিঞ্জ সরবরাহ করে আসছে।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) জেএমআই সিরিঞ্জেসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৯০ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২ টাকা ৮৮ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ২ টাকা ৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জেস।
ডিএসইতে গতকাল জেএমআই সিরিঞ্জেস শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৩৩৯ টাকা ১০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৩০৬ টাকা ও ৪২৯ টাকা ৮০ পয়সা।



