শিরোনাম
icon রিয়াদ-দাম্মামের ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
down of head

অগ্রণী ব্যাংক এমডির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

সাড়ে পাঁচ বছর ধরে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী এ এমডির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শামস-উল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঋণ, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাত্কৃত অর্থ বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও পেয়েছে সংস্থাটি। অভিযোগ তদন্তে সংস্থাটির পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এজন্য শামস-উল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাসরিন হাসান চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশের সব ব্যাংকের কাছে দুদক থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

দুদক থেকে ব্যাংকগুলোয় পাঠানো চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, শামস-উল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঋণ দেয়াসহ নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসাত্কৃত অর্থ বিদেশে পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার ও তার স্ত্রী নাসরিন হাসান চৌধুরী অথবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব থাকলে জানাতে হবে। চলমান, সুপ্ত বা আগে কোনো হিসাব বন্ধ হয়ে থাকলে সে তথ্যও দিতে হবে।

২০১৬ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন শামস-উল ইসলাম। প্রথম মেয়াদে তিন বছরের দায়িত্ব পালন শেষ হলে ২০১৯ সালে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও ওই সময় শামস-উল ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বিরোধিতা করা হয়েছিল।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। যদিও ২০১০ সাল-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় সংঘটিত অনিয়ম ও লুটপাটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে কোনো ব্যক্তিকে এসব ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ না দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডির বয়স সর্বোচ্চ ৬২ বছর ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নোটও দেয়া হয়।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ২০১৯ সালে শামস-উল ইসলামকে দ্বিতীয় মেয়াদে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এক্ষেত্রে আর্থিক খাতের প্রভাবশালী একটি পক্ষ ও দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি শিল্পগ্রুপের তদবির বড় ভূমিকা রেখেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। আগামী আগস্টেই এমডি পদে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি পদে নিয়োগ পাওয়ার পর শামস-উল ইসলাম আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তার সময়েই অলস আমানতের পাহাড় জমে ওঠে ব্যাংকটিতে। যেকোনো উপায়ে আমানত বাড়ানোর কৌশল নিতে গিয়ে ব্যাংকটিতে আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়। তবে অতিরিক্ত এ আমানত শেষ পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংকের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বড় লোকসানের মুখে চলে যায় ব্যাংকটি। আমানত লাখ কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার পর ব্যাংকটির ঋণ-আমানত অনুপাত নেমে আসে ৫০ শতাংশের ঘরে। এ অবস্থায় আগ্রাসী বিনিয়োগ করে এডি রেশিও বাড়ানোর উদ্যোগ নেন শামস-উল ইসলাম। উদ্যোগী হন দেশের বড় বড় শিল্পগ্রুপকে শত শত কোটি টাকার ঋণ পাইয়ে দেয়ার বিষয়েও।

অগ্রণী ব্যাংকের তথ্য বলছে, শামস-উল-ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ব্যাংকটি সিন্ডিকেশন ঋণের আওতায় ২৫টি বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। সব মিলিয়ে অগ্রণী ব্যাংক এখন পর্যন্ত ৯৭টি সিন্ডিকেশন ঋণের অনুমোদন করেছে। এসব ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে শামস-উল ইসলাম বড় ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি বড় গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার বিপরীতে বড় অংকের কমিশন গ্রহণসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন কেনাকাটা থেকে শুরু করে নানা প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ তিনি নামে-বেনামে দেশে বিনিয়োগ করার পাশাপাশি বিদেশে পাচার করেছেন। এর একটি অংশ কানাডা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সম্ভব হলে প্রকৃত সত্য উঠে আসবে।

দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে শামস-উল ইসলাম বলেন, আমি সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। দুদক থেকে চিঠি দেয়ার বিষয়টি আজই শুনলাম। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটির সত্যতা পাওয়া যাবে না।

 

সম্পর্কিত খবর