ভোমরা স্থলবন্দর
সাত মাসে ২৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি
২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়েই চলেছে। কোনোভাবেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না বন্দরটি। গত সাত মাসে বন্দরটিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪০ শতাংশ রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দেয়ায় রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে চলেছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস পর্যন্ত ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে গত ছয় মাসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ, আগস্টে ৫৭ কোটি ৬৩ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৭৩ কোটি ৩০ লাখ, অক্টোবরে ৭১ কোটি ২৮ লাখ, নভেম্বরে ৭৪ কোটি ২৮ লাখ, ডিসেম্বরে ৫৫ কোটি ২৭ লাখ, ও জানুয়ারিতে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি পড়েছে ২৪৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সূত্রটি আরো জানায়, গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪৭১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপন জানান, ভোমরা স্থলবন্দর অন্যান্য বন্দরের তুলনায় খুবই সম্ভাবনাময়। তার পরও রাজস্ব ঘাটতি পড়ছে। এর অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম, এ বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি নেই ব্যবসায়ীদের। তিনি বলেন, পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর নির্ভর করে রাজস্ব কম-বেশি হয়। এ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের যদি সব পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে ঘাটতি কাটিয়েও অনেকাংশে রাজস্ব বাড়বে সরকারের।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্ব থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে। তাছাড়া উচ্চ করযুক্ত পণ্য বেশি বেশি আমদানি করতে না পারলে রাজস্ব আয় বাড়ে না। অন্যদিকে কভিডের প্রভাবও রয়েছে। রাজস্ব আয় কমে গেছে। এখনো অর্থবছরের পাঁচ মাস বাকি। এ সময়ের মধ্যে বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো গেলে রাজস্ব ঘাটতি কমে আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১-২২ অর্থবছরে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের জন্য ১ হাজার ১৩৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৩৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছিল ১ হাজার ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।



