শিরোনাম
icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon পদ্মা অয়েলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon কপারটেকের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ক্রাউন সিমেন্টের লভ্যাংশ ঘোষণা
down of head

প্রভাবশালী মহলের ছায়ায় ধামরাইয়ে কৃষিজমিতে অবৈধ হাউজিং প্রকল্প

ঢাকা জেলার ধামরাই থানার পাঁচ গ্রামের প্রায় তিন হাজার বিঘা কৃষিজমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে আকসির নগর আবাসন প্রকল্প। এজন্য পাঁচ গ্রামের সাতটি মৌজাজুড়ে চলছে জমি ভরাটের কাজ। এরই মধ্যে তিনটি মৌজা ভরাট হয়ে প্লটও বিক্রি হয়ে গিয়েছে। বাকি চারটিতে কৃষিকাজ বন্ধের পথে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদের প্রশ্রয়ে বল প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিজমি দখল করে প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে। খোদ আবাসন প্রকল্পের স্বত্বাধিকারীও স্বীকার করেছেন, গণপূর্তের অনুমোদন ছাড়াই এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এমনকি এ ধরনের আবাসন প্রকল্পে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়ার নিয়ম থাকলেও সেটিও নেয়া হয়নি।

পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই প্রকল্পটি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে অধিদপ্তরও। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে সরাসরি অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি স্থানীয় কৃষকরা। প্রতিকার মেলেনি পুলিশ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অভিযোগ করার পরও। সংবাদ সম্মেলন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে সম্প্রতি বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা যায়, কাইজারকুণ্ড, মাখুলিয়া, সীতি, সাছনা, মামুরা, বড় কুশিয়ারা গ্রামের সাতটি মৌজার কৃষিজমিতে আকসির নগর ও হোম টাউনের বিলবোর্ড ঝোলানো রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিন বছর আগেও এসব জমিতে ধান, সরিষা ও টমেটোর আবাদ নিয়মিত করতেন কৃষকরা। কিন্তু এখন তা বন্ধ হওয়ার পথে। যেসব জমি এখনো প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা দখলে নিতে পারেনি, সেগুলো বিক্রির জন্যও কৃষকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যারা বিক্রি করেছেন, পুরো দাম বুঝে পাননি তাদের অনেকেই।

বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত আছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে। ধামরাই উপজেলার সাবেক এক নির্বাহী কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বলেন, আকসির নগর পুরো প্রকল্পটিই কৃষকদের জমি অবৈধভাবে ভরাট করা হচ্ছে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কৃষকের জমি দখলের বিষয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। তবে সে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় আমি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারিনি। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ জানালে বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। আর কৃষিজমি ভরাটের বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরের।

প্রকল্পটির কোনো বৈধতা নেই স্বীকার করে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, ধামরাইয়ে কোনো আবাসন প্রকল্পকে আমরা পরিবেশগত ছাড়পত্র দিইনি। কৃষিজমি ভরাট করে আকসির নগর নামের প্রকল্পটির বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বারবার অভিযোগের পরও অবৈধ আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না নেয়ার পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের রাজনৈতিক প্রশ্রয় রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এলাকার অন্তত ২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় দখলদারদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে ওপরের নিষেধ আছে, এমপির নিষেধ আছে, এসব বলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। জমি দখলদাররাও প্রায়ই হুমকি দিয়ে বলে, এমপি তাদের সঙ্গে আছেন।

এ প্রসঙ্গে কুল্লা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. পলান বলেন, কৃষিজমি দখল করে এভাবে অবৈধ একটি আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠছে, কিন্তু সংসদ সদস্য এ বিষয়ে কোনো ভূমিকা নেয়া তো দূরের কথা, উল্টো দখলদার তৌহিদকে সঙ্গে নিয়ে মিটিং করেন, চলাফেরা করেন। সে ছবি তৌহিদ তার পেজে, আইডিতে শেয়ারও করেন। এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একে তো বর্তমান এমপি জমি দখলদারের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছেন, অন্যদিকে দখলদারের লোকেরা বারবার এমপির দোহাই দিয়ে কৃষকদের ভয় দেখাচ্ছে। আমি নিজে দুবার তার সঙ্গে দেখা করে এ সম্পর্কে অভিযোগ করেছি। কিন্তু তিনি বলেছেন, বারবার এক কথা বলো কেন? তোমাদের আর কোনো সমস্যা নেই? সেগুলো নিয়ে বলো।

যদিও এসব অভিযোগকে মিথ্যা-বানোয়াট মন্তব্য করে ঢাকা-২০ আসনের এমপি বেনজির আহমেদ বলেন, তৌহিদের সঙ্গে আমার মাত্র একবার দেখা হয়েছে। তার প্রজেক্ট কোথায়, সেটাও আমি জানি না। আমার কাছে লোকজন অভিযোগ নিয়ে এলে আমি লিখিত অভিযোগ জানাতে বলি। কিন্তু কোনো অভিযোগ আজও আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে আসনটির সাবেক এমপি ও ধামরাই থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মালেকের ভাষ্যমতে, বর্তমান এমপি বেনজীর আহমেদ নির্বাচিত হওয়ার পরই জমি দখলদাররা তাদের প্রকল্পের কাজ নতুনভাবে শুরু করে। এতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আরো জোরালো হয়। তিনি বলেন, আমি সংসদ সদস্য থাকাকালে তৌহিদ আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখে। বর্তমানে সে কাজ পুনরায় চালু হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার অবৈধ লেনদেনের বিষয়টি আমরা অবগত।

আকসির নগর আবাসন প্রকল্পটির স্বত্বাধিকারীর নাম তৌহিদুল ইসলাম। বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে আসা এ ব্যক্তি একসময় দুবাই ও বাহরাইন প্রবাসী ছিলেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ২০১২ সালে বংশী নদীর তীরে বসবাসরত মাঝি সম্প্রদায়কে উচ্ছেদ করে ধামরাইয়ে আসন গেড়ে বসেন তিনি। এরপর তিনি কাইজান গ্রুপ নামে আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। ২০১৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালে কাজটি পুনরায় আকসির নগর নাম দিয়ে চালু করেন তৌহিদুল ইসলাম। এর পর থেকেই প্রকল্পের জন্য একের পর এক জমি দখল করতে থাকেন তিনি ও তার সহযোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রথমে কিছু জমি কিনে বালি ভরাট শুরু করেন তৌহিদ। পরবর্তী সময়ে আশপাশের সব জমিও তিনি ভরাট করতে থাকেন। নানা কৌশলে সেসব জমি মালিকদের বিক্রি করতে বাধ্য করেন তিনি। জমির মালিকদের প্রতিশ্রুত অর্থের পরিবর্তে নামমাত্র মূল্য দিয়ে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে নেয়া হয়। নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক কৃষক বলেন, তৌহিদ তার জমি ভরাটের সময় আমার জমিও ভরাট করতে শুরু করে। সে আমাকে বলে, তোমার জমি বিক্রি করো। প্রতি শতাংশ জমি ৬০ হাজার টাকায় দেয়ার কথা দিলেও পরবর্তী সময়ে আমাকে বলা হয়, ১০-১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আমি রাজি হইনি। কিন্তু আমার জমি সে ভরাট করে ফেলেছে।

কোনো কৃষক তার জমি বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানালে তা জোরপূর্বক দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মাখুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আফসান আলীরা পাঁচ ভাই। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে ফসল ও মাছ চাষ ছিল তাদের প্রধান পেশা। কৃষিনির্ভর এ পাঁচ ভাইয়েরই পরিবারের আয় এখন বন্ধ। আফসান আলী বলেন, একসময় বছরজুড়ে ধান, সরিষা ও টমেটো ছাড়াও নিচু জমিতে মাছ চাষ করে বছরে ৩ লাখ টাকা আয় করতাম আমি একাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের সহযোগিতায় আকসির নগর আবাসনের মালিক তৌহিদুল ইসলাম সে জমি দখল করে আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলছেন।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে একদিন তৌহিদুল ইসলামের লোকজন এসে ভেকু দিয়ে জমি ভরাট করা শুরু করে। বাধা দিলে তারা বলে, জমি বিক্রি করতে হবে। জমি বিক্রি করতে না চাইলে আমাকে হুমকি-ধমকি দেয়া শুরু হয়। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয়নি। উল্টো এসে শুনি আমি নাকি জমি দখলদারদের ভেকু ভেঙে দিয়েছি, তাদের মারধর করেছি, চুরি করেছি। এসব অভিযোগে মোট ১৭টি মামলা হয়েছে আমার নামে। সে থেকেই মামলা টানছি। এখনো চারটি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলা চালাতে গিয়ে এতটাই নিঃস্ব হয়ে পড়েছি, দখলদারদের কাছেই টাকার জন্য জমি বেচতে বাধ্য হয়েছি। কৃষিকাজ বন্ধ। আমাদের পাঁচ ভাইয়েরই আয়ের পথ এখন পুরোপুরি বন্ধ।

শুধু আফসান আলী নন, আকসির নগর আবাসন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ধামরাইয়ের ছয় গ্রামের এক হাজারের বেশি কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, যারাই জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করেছে, উল্টো তাদেরই আসামি করে মামলা ঠুকে দেয়া হয়েছে। হামলার শিকারও হয়েছেন অনেকে।

এমনই এক ব্যক্তি ভজন রায়। তিনি জানান, ২৬৬ শতাংশ জমি বিক্রি করতে না চাওয়ায় গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি একদল সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ভেঙে দেয়া হয় ডান পা।

ভজন রায় বলেন, জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে দখলদাররা। কিন্তু গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে গেলে তারা আমাকে প্রাণে মারতে পারেনি।

গত ৩০ নভেম্বর স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর অবৈধ আকসির নগর প্রকল্প বন্ধের জন্য আবেদন করেন। তিনি বলেন, নানা জায়গায় দৌড়াচ্ছি। কিন্তু কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে না। দখলদাররা আমাদের হুমকি দিচ্ছে, এমপি তাদের সঙ্গে আছেন। তাদের কিছু করা সম্ভব হবে না। গত আগস্টে এমপি আমাদের এলাকায় এলে আমরা কৃষকরা একত্রে তাকে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বললেন, আমার অন্য কাজ আছে। আরেকদিন আমরা কৃষকরা তার বাসায় গিয়েছি, সেদিনও তিনি আকসির নগরের বিষয়ে কথা তুললে অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে চাইলে তিনি সেটি গ্রহণ না করেই আমাদের ফিরিয়ে দেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, এমপির প্রশ্রয়েই ভূমিদস্যুরা আমাদের কৃষিজমি দখল করে নিচ্ছে। নয়তো ওনার এলাকায় এত বড় অবৈধ কাজ চলছে, তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? তিনি কেন একবারের জন্যও কুল্লা এসে সরেজমিন পরিদর্শন করছেন না বা তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন না। আমরা এলাকাবাসী দখলদারদের ভয়ে তটস্থ। কাউকে কিছু বললেই আমাদের ওপর হামলা চলে। এমপির বিরুদ্ধে বললে আমাদের সমস্যা হয়। এ নিয়ে এখন লেখালেখি হলে কৃষকদের ওপর অত্যাচার আরো বাড়বে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

বর্তমানে আবাসন প্রকল্পের জমি ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করতে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের ছবি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহার করে আকসির নগরের ব্র্যান্ডিংও করছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আদিব একরাম সপরিবারে ওই এলাকা থেকে প্লট কিনেছেন বলে একটি ছবি আকসির নগর আবাসন পেজ থেকে পোস্ট করা হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আকসির নগর আবাসন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলেন, আমাদের কোনো পেজ নেই।

কিন্তু অধ্যাপক আদিব একরাম বলেন, আমার এক আত্মীয় আকসির নগর আবাসন প্রকল্প থেকে একটি প্লট কেনেন। আমি সেটি রিসিভ করি। সংশ্লিষ্টরা সে ছবি ব্যবহার করার জন্য আমার অনুমতি চাইলে আমি অনুমতি দিই।

প্রকল্পের জন্য গণপূর্ত ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রকল্পের মালিক তৌহিদুল ইসলামও। তিনি বলেন, বর্তমানে অনুমোদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমি এখানে কোনো আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলিনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তারা এখানে জমি কেনেন। আমি তৃতীয় পক্ষ হয়ে জমি বেচাকেনা করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে বলছেন, তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বিনষ্ট হওয়ায় এসব করছেন। আমি যাদের বালির কাজ দিইনি, তারাই আমার বিরুদ্ধে বলছেন।

আবাসন প্রকল্পের ওয়েবসাইটে প্লট বিক্রির প্রচারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওয়েবসাইটটি কে বা কারা করেছে, তা আমার জানা নেই। একটি আবাসন প্রকল্পের ওয়েবসাইট আরো উচ্চমানের ডিজাইনের হয়। আপনি দেখবেন, ওই ওয়েবসাইটটি মানসম্মত হয়নি।

 

সম্পর্কিত খবর