down of head

আয় বাড়লেও মুনাফা কমেছে কনফিডেন্স সিমেন্টের

চলতি ২০২১-২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয় বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের। তবে আয় বাড়লেও এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। আর কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ২৮ শতাংশ। কোম্পানিটির সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় ছিল ৬৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ১১ কোটি টাকার বেশি বা প্রায় ১৭ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে নিট মুনাফা ছিল ২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার মতো। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৭ কোটি টাকার বেশি বা ২৮ শতাংশের বেশি। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৩২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৩৯ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭৬ টাকা ৬১ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৭৪ টাকা ২৬ পয়সা।

৩০ জুন ২০২১ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্টের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৫ টাকা ৮৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ২৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৬৪ টাকা ৭০ পয়সা। সমাপ্ত হিসাব বছরের সুপারিশকৃত লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ধরা হয়েছে ২৩ নভেম্বর।

২০১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৭৬ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস ছিল ৬৬ টাকা ৭৩ পয়সা।

এর আগের ২০১৯ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কনফিডেন্স সিমেন্ট। ২০১৮ হিসাব বছরে ১৫ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা।

১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্টের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৭৮ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৫৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার ৭ কোটি ৮২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩১টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৩ দশমিক ৯০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৫৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল কনফিডেন্স সিমেন্টের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ১১৬ টাকা ৬০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৯৮ থেকে ১৬৭ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

সম্পর্কিত খবর