down of head

জীবন বীমায় ৭ কর্মকর্তাকে শোকজ ও ২ জন সাময়িক বরখাস্ত

রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশনের সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের অভিযোগে ছয়জন ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার (ডিএম) ও একজন ডেভেলপমেন্ট অফিসারকে (ডিও) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় চারজন ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজারকে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

গত ২৩ আগস্ট জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাঈদ কুতুব স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নোটিশ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম ও শামসুল আলমকে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার জিএম হাসান মাহমুদ ও জান্নাত আরা নাজুকে শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অপর দুই ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার কবির উদ্দিন ও মো. সনজিদ আলী এবং ডেভেলপমেন্ট অফিসার মেসবাহ উদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জীবন বীমা করপোরেশনের দায়িত্বশীল পদে থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২, ১৯ ও ২৩ বিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে জীবন বীমা করপোরেশনের ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার্স এবং ডেভেলপমেন্ট অফিসার্স সার্ভিস রেগুলেশন, ১৯৭৮ (সংশোধিত)-এর ২৪ নম্বর প্রবিধান অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) উপবিধির আওতায় তাঁদের কর্মকাণ্ড ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও, ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(ঘ) উপবিধি অনুযায়ী কেন তাঁদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা ব্যক্তিগত শুনানি দিতে চান কি না, তাও জানাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না দিলে বিষয়টি একতরফাভাবে নিষ্পত্তি করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে জীবন বীমা উন্নয়ন অফিসার ও উন্নয়ন ম্যানেজার কল্যাণ সংগঠনের ব্যানারে জীবন বীমা করপোরেশনের সংকট ও অব্যবস্থাপনা নিরসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় সংকট সমাধানে ১৯৭৮ সালের সংশোধিত সার্ভিস রুলস বাস্তবায়নের দাবিসহ ২০২১ সালের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কর্পোরেশনে অনিয়মের অভিযোগ এনে তা তদন্তের দাবি সম্বলিত একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার পর মঞ্চে বসে আবার অনিবার্য কারণবশত সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে হল ত্যাগ করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্তভাবে নিজেদের দাবির প্রসঙ্গ জানান তারা।

তবে সাময়িক বরখাস্ত ও শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, শাখা ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া কার্যত গুরুদণ্ডের শামিল। অথচ সার্ভিস রুল অনুযায়ী গুরুদণ্ড দেওয়ার আগে তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং শুনানিসহ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাঁদের সরাসরি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তাঁরা আরও বলেন, একটি শাখায় সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ জন ডেভেলপমেন্ট অফিসার, ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ও এজেন্ট শাখা ব্যবস্থাপকের অধীনে কাজ করেন। শাখা ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে তাঁদের বেতন, কমিশন, পলিসির টাকা জমাসহ নিয়মিত কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, করপোরেশনের সংকট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমস্যা এবং সার্ভিস রুল বাস্তবায়নের মতো বিষয় নিয়ে কথা বলা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার। তাঁরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং করপোরেশনের সংকট নিরসন ও কর্মীদের স্বার্থে এসব দাবি তুলে ধরেছেন।

এ বিষয় জীবন বীমা কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তা অর্থবাংলাকে বলেন, আন্দোলনরদের অনুমদিত কোন সংগঠন নেই। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের জন্য জীবন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমোদনও ছিল না। এছাড়া ব্যবসায়ীকভাবেও অবস্থান দূর্বল। নিয়ম লংঘন করায় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগেও তাদের সর্তক করা হয়েছিল।

সম্পর্কিত খবর