১৩০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন বেজার

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) তিন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৩০ কোটি ডলারের ২৮ বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। ২৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত জমির পরিমাণ ৩৬৩ দশমিক ৫৩ একর। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করলে প্রস্তাব অনুযায়ী ৩৬ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে বেজা।

২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে ১৫টি, সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে সাতটি ও জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আব্দুল মোনেম গ্রুপ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ), কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ফকির নিটওয়্যার, ইসরাক স্পিনিং ও ভারতের আরএসপিএল হেলথ (বিডি) লিমিটেড।

এর মধ্যে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, কম্প্রেসর, টেলিভিশন পণ্য ও আব্দুল মোনেম গ্রুপ সেখানে ভবন নির্মাণের বিভিন্ন কাঁচামাল উৎপাদন করবে। বিজিএপিএমইএ থ্রেড, পলি ব্যাগ, প্লাস্টিক হ্যাঙ্গারসহ অন্যান্য পণ্য এবং ভারতের আরএসপিএল হেলথ (বিডি) ডিটারজেন্ট এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী উৎপাদন করবে। কিয়াম মেটাল কাচের বিভিন্ন পণ্য এবং হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এপিআই, পেনিসিলিন, বায়োটেক প্রডাকশনসহ অন্যান্য পণ্য উৎপাদন করবে। ফকির নিটওয়্যার নিটওয়্যার পণ্য এবং ইসরাক স্পিনিং শতভাগ রফতানিমুখী সুতা তৈরির টেক্সটাইল কারখানা নির্মাণ করবে।

সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হোটেল ও ট্যুরিজম খাতে ডার্ড গ্রুপ ও ইফাদ গ্রুপ। এ দুই প্রতিষ্ঠানই হোটেল ও ট্যুরিজম খাতের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করবে।

জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আকিজ টেক্সটাইল মিলস ও ওয়ালটন গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফারভেন্ট মাল্টিবোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। আকিজ টেক্সটাইল তাদের নির্ধারিত জায়গায় সিলিকা এক্সট্রাকশন প্লান্ট ও চাল, রাইস ব্র্যান অয়েল, সরিষার তেল ও ফিড মিল উৎপাদন করবে। ওয়ালটনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ফারভেন্ট মাল্টিবোর্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ইঞ্জিনিয়ার্ড পণ্য তৈরি করবে।

এসব বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, খুব শিগগির এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জমির ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিনিয়োগবান্ধব সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং বিশ্বের কাছে উন্নয়নের একটি রোল মডেল স্থাপন করেছে। নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হবে এবং এসব অঞ্চলে জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলো পূরণ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বেজা এরই মধ্যে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে, বর্তমানে যার ২৮টির উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে। সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ১৫৬টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বর্তমান সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে ২৯টিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং ৬১টি শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। অঞ্চলগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

সম্পর্কিত খবর