ফারইস্টের ৫৮৫ কোটি টাকা লুটপাট
১১৬ কোটি টাকা পাচারে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের ১১৬ কোটি টাকা পাচারে অভিযোগ এনে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

মামলার বাদী সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তারা বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে অর্থ সরিয়েছে। টাকার একটি অংশ তারা দেশের বাইরে পাচার করেছেন। এর মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ১১৬ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।’

জানা গেছে, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের ৫৮৫ কোটি টাকার ক্ষতি ও লুটপাট করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে লুটপাটের ১১৬ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সিইও তরফদার জাহাঙ্গীর আলম, খালেকের স্ত্রী-সন্তানসহ ১৭ জন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার এই ১৭ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

সূত্র জানায়, কোনো রকম অর্থ পরিশোধ না করেই খালেকের পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা জমা দেখানো হতো। খালেকের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এভাবে কোটি কোটি টাকা জমা করতেন। এরপর সেই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নিতেন। আত্মসাতের অর্থে খালেকের পরিবার কানাডায় সেকেন্ড হোম গড়েছেন। তার স্ত্রী-সন্তানরাও কানাডায় পালিয়েছেন।

সিআইডি জানায়, স্বজন ছাড়াও খালেক তার সহযোগীদের বিও অ্যাকাউন্টে ফেক ডিপোজিট দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন। এই আত্মসাতের টাকার একটি অংশ সহযোগীদের তিনি ভাগ করে দিতেন। খালেকসহ এই অপকর্মে জড়িত ১৭ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিল থানায় মামলা করেছে সিআইডি।

মামলার আসামিরা হলেন- ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে পরিচালক এমএ খালেক, প্রতিষ্ঠানের সিইও তরফদার জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী খশরুবা সুলতানা শিল্পি, সাবেক সিএফও জাহিদুল হক, খালেকের স্ত্রী সাবিহা খালেক, তার ছেলে শাহরিয়ার খালেদ রুশো, মেয়ে শারওয়াত খালেদ, খালেকের সহযোগী ফজলুল হক, আবুল কাশেম মোল্লা, রাশেদ মোহাম্মদ মাজহারল, শেখ ইউসুফ আলী, মাহবুবা সুলতানা, দিলরুবা সুলতানা, নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মোস্তফা ও কাজী শাহরিয়ার।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি তরফদার জাহাঙ্গীর আলম ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটি লি. কোম্পানিতে হেড অব অপারেশন ও জাকির হোসেন ভূইয়া একই কোম্পানিতে হেড অব মার্কেটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডসের কার্যক্রম শুরুতেই তরফদার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং জাকির হোসেনকে এভিপি পদে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের শুরুতেই ২০১০ ও ২০১১ সালে তরফদার জাহাঙ্গীর আলম জাকির হোসেনসহ অন্য আসামিরা ১১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার চেক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নিয়ে কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা না করে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া জমার বিপরীতে মার্জিন রুল ব্যত্যয়পূর্বক লোন প্রদান করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, লুটপাটের টাকায় ঢাকার গুলশানের বারিধারায় গড়ে তোলা খালেকের ১৫০ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা আলিশান বাড়ি সম্প্রতি ক্রোক করা হয়েছে। বাড়িটি গুলশানের বারিধারা আবাসিক এলাকার কে-ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ২ নম্বরে। গুলশান সাবরেজিস্ট্রি অফিসের বাড়িটির দলিল নম্বর ৬২১। ৮ শতাংশ ৮ ছটাকের ওপর ৪তলা আলিশান বাড়িটি ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি কেনেন এমএ খালেক। বাড়িটির দলিল মূল্য ছিল ৬৫ কোটি টাকা। তবে পুলিশ বলছে, বর্তমান বাড়িটির মূল্য অন্তত ১৫০ কোটি টাকা।

সম্পর্কিত খবর