সূচকে টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারা, শেয়ারবাজারে ফিরছে প্রাণ
চলতি সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। ব্যাংক হলিডের কারণে
মঙ্গলবার (১ জুলাই) লেনদেন না হলেও সপ্তাহের চার কর্মদিবসের মধ্যে তিন দিনই সূচক বেড়েছে। এ ধারাবাহিক উত্থান বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সপ্তাহের শুরুতে সোমবার (৩০ জুন) সূচক সামান্য এক পয়েন্ট কমলেও রোববার থেকে শুরু হওয়া ঊর্ধ্বমুখী ধারা সপ্তাহ শেষে আরও শক্ত হয়েছে। রোববার ডিএসইর সূচক বেড়েছে প্রায় ৭ পয়েন্ট, বুধবার ২৭ পয়েন্ট এবং বৃহস্পতিবার ২৯ পয়েন্টের বেশি। সপ্তাহজুড়ে মোট ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসইর প্রধান সূচক দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৯৪.০৬ পয়েন্টে, যা বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
আজ (৩ জুলাই) ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৮.৭৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৯৪.০৬ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ ডিএসই-৩০ সূচকও ১৮.৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৩৬.১১ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসইএস সূচক এক পয়েন্টেরও কম হ্রাস পেয়ে ১৬৫.৩৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
লেনদেনেও দেখা গেছে ধারাবাহিকতা। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫০৬ কোটি ১৮ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় ২৬ কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহের অন্য দিনগুলিতেও লেনদেন মোটামুটি ভালো ছিল। রোববার লেনদেন হয় ৪৯৪ কোটি টাকা, সোমবার কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৪৬৪ কোটি টাকায় এবং বুধবার বেড়ে হয় ৪৭৯ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৪টির, কমেছে ১৮১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬২টির।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর চিত্রও ছিল ইতিবাচক। বৃহস্পতিবার সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৯৯.৬৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩,৬২৮.৪৪ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার।
সিএসইতে বৃহস্পতিবার ২০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৭টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, ৫৫টির কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিকভাবে চলতি সপ্তাহে সূচকের উত্থান, লেনদেনের বৃদ্ধি এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার প্রবণতা বাজারে একটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক ধারা সূচিত করছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ জাগিয়ে তুলছে এ গতি।


