ব্যাংকিং বিষয়ক সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি
সুদহার বাড়ালে নতুন খেলাপির ঝুঁকি তৈরি হবে
ব্যাংক ঋণের সুদ হার না বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। শনিবার সকালে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ব্যাংকিং ও লিজিং বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জসিম বলেন, সুদহার বাড়ালে ঋণগ্রাহক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা আরো বেশি চাপে পড়বে। ইউক্রেনে সংকটের কারণে এরই মধ্যে কাঁচামাল, জাহাজভাড়া ও পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সুদহার বাড়লে শিল্পের উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসার খরচ বাড়বে।
তিনি বলেন, কভিডের সংকট পার করে এখনো বাড়তি চাপ সামলানোর পরিস্থতি তৈরি হয়নি। তাই সুদহার বাড়ালে নতুন খেলাপি তৈরির ঝুঁকি তৈরি হবে।
শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ কমে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হলে গ্রাহক ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হবেন, যা ব্যাংক ও উদ্যোক্তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ। গ্যাস ও বিদ্যুতের বৈশ্বিক সংকটের সমাধান হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন। ডলার সংকট সমাধানে ব্যাংকিং সেবাকে আরো কার্যকর করাসহ খরচ কমানো প্রয়োজন বলেও মনে করেন মো. জসিম উদ্দিন।
এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি ও কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্ব অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন ও আমদানি করতে না পারায় স্থবির হয়ে পরেছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায়ীরা ঋণখেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে এখনই প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এ কে এম শহীদ রেজা। ঋণের সুদহার না বাড়ানোসহ গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের একই আহ্বান জানান তিনি।
দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার, অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য, ও সাধারণ পণ্য আমদানি-এ তিন খাতে ডলারের সুষম বন্টন ডলার সংকট সমাধানে সহায়ক হতো বলে মনে করেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী।


