সরবরাহ সংকটে আবারো বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
বিশ্বজুড়ে চলমান সরবরাহ সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা মানে দরপতনের মধ্যে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারো বেড়েছে। অন্যদিকে আগামী সপ্তাহে ২০২০ সালের উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি সমাপ্তের অংশ হিসেবে সম্মেলন করবে রাশিয়া, ওপেক ও সংস্থাটির মিত্ররা।
রয়টার্স প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) সেপ্টেম্বরের ভবিষ্যৎ সরবরাহ বাজারে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ ডলার ৯ সেন্ট বেড়েছে। এতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ ডলার ৫১ সেন্ট।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের ভবিষ্যৎ সরবরাহ বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮৬ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অক্টোবরের ভবিষ্যৎ সরবরাহ বাজারে ব্রেন্টের দাম ৮৭ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ ডলার ৭০ সেন্ট।
সাপ্তাহিক আয়ের দিক থেকে ব্রেন্ট ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে দেবে। সিএমসির বাজার বিশ্লেষক টিনা টেং বলেন, মার্কিন ডলারের অবনমন ও সরবরাহ সংকটের কারণে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
আগামী ৩ আগস্ট পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক) এবং রাশিয়ার নেতৃত্বে মিত্রদের নিয়ে গঠিত ওপেকপ্লাসের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কেননা ২০২০ সালে যখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হয় তখন উত্তোলনকারী দেশগুলো প্রতিদিন ৯৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের বিষয়ে চুক্তি করেছিল। এ চুক্তিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
ওপেকপ্লাস সম্পর্কিত সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গ্রুপটি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত পরিমাণ তেল উত্তোলনের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে অন্য আরো দুটি সূত্র জানায়, উত্তোলনের পরিমাণ বাড়তেও পারে। সম্মেলনে যদি তেল উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হয় তাহলে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হতাশাজনক হবে। কেননা চলতি মাসে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অপরিশোধিত তেল উত্তোলনে একটি চুক্তি সম্পাদনে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানান, সরকার ওপেকপ্লাসের সম্মেলনের বিষয়ে আশাবাদী। সেই সঙ্গে জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত সরবরাহ বাজার ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।
এএনজির একজন বিশ্লেষক বলেন, লিবিয়া ও একুয়েডরে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও ওপেকের উৎপাদন সীমাবদ্ধ। সদস্য দেশগুলোয় বিনিয়োগ বন্ধ থাকলে উৎপাদনও সীমাবদ্ধ থাকবে।
বর্তমানে অস্থিতিশীল জ্বালানি বাজার নিয়ে বেশ উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে আমন্ত্রণ করে প্যারিসে নিয়ে আসেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এলিসি প্রাসাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় নেতা জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্যময় উেসর গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এতদিন ইউরোপের জ্বালানি ও কৃষিপণ্যের অন্যতম উৎস ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধে এ সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মস্কোর প্রতি পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় ক্রেমলিন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল রফতানিকারক সৌদি আরবের কাছে উত্তোলন বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছেন মাখোঁ।



