সরকার বাজেটে দেয়ার চেয়ে নিয়েছে বেশি: এফবিসিসিআই
বিভিন্ন জায়গায় এবারের বাজেটে সরকার কর ছাড় দিয়েছে। আবার সামগ্রিকভাবে দেয়ার চেয়ে নিয়েছে বেশি। করপোরেট ছাড় দেয়া হয়েছে ঠিকই, ছাড়ের চেয়ে নেয়ার ব্যালান্সটি অর্থমন্ত্রীর পক্ষেই যাচ্ছে বেশি। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) কার্যালয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি মওকুফকৃত ঋণের ওপর করারোপ, রফতানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর কর্তন এবং উৎপাদকদের কাঁচামাল সরবরাহ ও ব্যবসায়িক পণ্য সরবরাহে উৎসে করারোপের প্রস্তাব অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ মওকুফ করা হলে তা করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য করা হবে কেন। যদি দুর্ভোগ লাঘবের জন্যই ঋণ মওকুফ করা হয়ে থাকে, তবে সেটার ওপর করারোপ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। রফতানি আয়ের ওপর ১ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের বিধান যৌক্তিক হয়নি। উৎপাদন পর্যায়ে কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক পণ্যের সরবরাহের ওপর ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। উৎসে কর ফেরতযোগ্য এবং ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি করে বলে এটি প্রত্যাহারের জন্য আমরা পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, সোলার প্যানেল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ করা হয়েছে। এটি প্রত্যাহার করা উচিত। জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এসব বিবেচনায় আয়করের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়নি। প্রস্তাবটি তাই পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রস্তাবিত বাজেটে মূসক, আগাম কর, উৎসে কর, অগ্রিম কর ইত্যাদিসহ আমদানি শুল্কে রেয়াত দেয়া হলেও সামগ্রিক শিল্প বাণিজ্য খাত এসব শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অসমতা দেখা দিচ্ছে। বেশ কয়েকটি বিশেষ খাতে মূসক, আগাম কর, উৎসে কর, অগ্রিম কর ইত্যাদিসহ আমদানি শুল্কে রেয়াত দেয়া হলেও সামগ্রিক শিল্প-বাণিজ্য খাত এসব শুল্ক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বাজেট বাস্তবায়নে সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করে এফবিসিসিআই। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কোনো অর্থবছরই রাজস্ব আয়ের টার্গেট অর্জন করা সম্ভব হয় না। ফলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ছে না। করব্যবস্থা সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করা দরকার। রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআরের অটোমেশন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। এ সময় বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অংকের ঋণ নেয়া হলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি করবে বলেও মন্তব্য করা হয়। এফবিসিসিআই জানায়, মুদ্রানীতি ও রাজস্ব নীতির মধ্যে সুসমন্বয় রাখা জরুরি। অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর তুলে না নিলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে দেয়া কর ছাড়ের সুফল মিলবে না। অগ্রিম আয়কর (এআইটি) এবং আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম কর (এটি) ব্যবসায়িক খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এগুলো বিলুপ্ত করার প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, এনবিআরকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায়ে ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি বিচার ব্যবস্থাবহির্ভূত কাজ। একজন ব্যবসায়ী কর না দিলে বা অন্য কোনো অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আদালত তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। হঠাৎ করে আপনি কাউকে পাঠিয়ে দিয়ে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করে দেবেন, এটা যৌক্তিক হয় না।



