শিরোনাম
icon পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সব ব্যাংকিং সেবা icon ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৮২ icon রিয়াদ-দাম্মামের ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার
down of head

সম্প্রসারণ ঘটবে বেনাপোল ও নওয়াপাড়া নৌবন্দরের বাণিজ্যে

আজ উদ্বোধন হচ্ছে পদ্মা সেতু। এ সেতুকে ঘিরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অর্থনীতির চাকা গতিশীল হবে। এ উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সুফল ভোগ করবে যশোর জেলাও। জেলায় দুটি বন্দর রয়েছে। একটি হলো সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল, অন্যটি নওয়াপাড়া নৌবন্দর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে সম্প্রসারিত হবে বন্দর দুটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে বন্দর দুটির সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে অভিমত ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরটি দিয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০ লাখ ১১ হাজার ৬ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪ টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। আমদানি ও রফতানি থেকে বন্দর ও কাস্টমস রাজস্ব আয় করেছে কমপক্ষে ৮ হাজার কোটি টাকা। পদ্মা সেতু চালুর পর আমদানি-রফতানির গতি আরো বাড়বে। উল্লম্ফন দেখা দেবে রাজস্ব আয়ে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যাতায়াত সহজ হবে। কম সময়ের মধ্যে আমদানীকৃত পণ্য ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এ কারণে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রফতানির গতি আরো বাড়বে। তবে বন্দরের সক্ষমতা না বাড়লে প্রত্যাশামাফিক সুফল মিলবে না।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বছরে ২০ লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি হয়। কিন্তু বন্দরে রাখার সক্ষমতা রয়েছে ৪৭ হাজার টন। ফলে ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আনতে পারছেন না। বন্দরের পরিধি বাড়লে পদ্মা সেতুর সুফল দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মহসিন মিলন বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল সহজ হবে। এতে আমদানিকারকরা আগ্রহী হবেন। আশা করছি বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। তবে সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য সম্পাদনে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কাজ চলমান। প্রয়োজনে আরো ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এসব উন্নয়নকাজ শেষ হলে এ বন্দরের বাণিজ্যে আরো প্রসার ঘটবে।

বেনাপোলের মতো নওয়াপাড়া নৌবন্দরেও পদ্মা সেতুর সুফল মিলবে বলে মনে করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা। নওয়াপাড়া নৌবন্দরের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের ৩৭ কিলোমিটারে ৩০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরো কাজ করা হচ্ছে। কেননা পদ্মা সেতু চালুর পর এ বন্দর দিয়ে বাণিজ্য সুবিধা দ্বিগুণ হবে। সেতুকে ঘিরে যশোর ও মোংলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে। তখন মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে। আর মোংলায় জাহাজ বাড়লে নওয়াপাড়া নৌবন্দর ব্যবহার বাড়বে।

বন্দরটিতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৬৮টি জাহাজে ৭ লাখ ৮৪ হাজার টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ হাজার ৫টি জাহাজে ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ হাজার ৩০০ জাহাজে ১১ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ টন পণ্য এসেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য এসেছে ১৫ লাখ টন। এ বন্দর দিয়ে মূলত সার, সিমেন্ট, কয়লা, গমসহ বিভিন্ন পণ্য আসে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক হুমায়ুন কবীর কবু বলেন, পদ্মা সেতুকে ঘিরে অর্থনৈতিক ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সড়কপথে পণ্যবাহী ট্রাক পৌঁছতে কম সময় লাগবে। এতে বেনাপোল ও নওয়াপাড়া নৌবন্দরে বাণিজ্য সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে যশোর রেলপথ নির্মাণ ও গ্যাস লাইন স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি। এটি বাস্তবায়ন হলে জেলার অর্থনীতি পূর্ণতা পাবে।

সম্পর্কিত খবর