শিরোনাম
icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন icon সিকদার ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon পদ্মা অয়েলের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা icon কপারটেকের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ক্রাউন সিমেন্টের লভ্যাংশ ঘোষণা icon তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বেঙ্গল উইন্ডসোর লভ্যাংশ ঘোষণা icon রহিম টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon কফির কাপে ক্যাজুয়াল লুকে পূর্ণিমা icon জাপানি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর icon কে এন্ড কিউয়ের লভ্যাংশ ঘোষণা icon রানার অটোমোবাইলসের লভ্যাংশ ঘোষণা icon এডভেন্ট ফার্মার লভ্যাংশ ঘোষণা icon সাইনপুকুর সিরামিকসের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৪৩ icon দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারেক রহমান-সানায়ে তাকাইচি icon আস্থা লাইফের ২৮ লাখ টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তি
down of head

সব সূচকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ, বদলায়নি অর্থবছরের হিসাব

গত ৫০ বছরে অর্থনীতির আকারের দিক থেকে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়, রফতানি, নিট বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসহ অর্থনীতি-সংশ্লিষ্ট প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশ এখন এগিয়ে। স্বাধীনতা-পূর্বকালের অর্থনৈতিক স্থবিরতাকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে এলেও অর্থবছর হিসাবায়নের ক্ষেত্রে এখনো পাকিস্তান আমলের রীতিকেই অনুসরণ করে চলেছে বাংলাদেশ।

দেশে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই। শেষ হয় ৩০ জুন। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী অর্থবছর শুরু ও শেষ হয় আষাঢ়ের মাঝামাঝি। এ সময়টি আবার ভরা বর্ষার মৌসুম। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতাও থাকে বেশি। প্রতিবার অর্থবছর শুরু ও শেষের সময়টিতেই বাজেট বাস্তবায়নসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। যদিও অন্যান্য দেশে এ সময়েই এসব কার্যক্রম গতি পায় সবচেয়ে বেশি। তার পরও পাকিস্তান আমলে সংজ্ঞায়িত অর্থবছরের এ সময়সীমা এখনো অনুসরণ করে চলেছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চালু থাকলেও তা পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। এজন্য মূলত আমলাদের অনাগ্রহকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিটি দেশই অর্থবছরের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেশী সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক নিয়মাচার ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার নিরিখে। ব্রিটিশরা অর্থবছর নির্ধারণ করেছিল নিজস্ব প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে। এর অনুকরণে পাকিস্তান আমলেও জুলাই-জুন সময়সীমা চালু থাকে। উপেক্ষিত অঞ্চল হওয়ায় বাংলাদেশের (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) প্রয়োজনীয়তা এখানে বিবেচনায় আনা হয়নি। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ অনেক কম হওয়ায়, সেখানকার নীতিনির্ধারকরাও বিষয়টিকে তেমন কোনো সমস্যা বলে মনে করেনি।

কিন্তু স্বাধীনতার পর অর্থবছরের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সময়সীমা বাংলাদেশের জন্য অনেক অসুবিধার কারণ হলেও তা পরিবর্তন করা যায়নি। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের কাঠামো ঐতিহ্যটিই থেকে গিয়েছে। যদিও অন্যান্য দেশ নিজ নিজ মৌসুমি আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতেই এটি পুনর্নির্ধারণ করেছে। এমনকি জুলাই-জুন সময়সীমার প্রচলনকারী দেশ যুক্তরাজ্য নিজেও এখন ৬ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থবছরের হিসাবায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর হিসাব করা হয় অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারতে তা এপ্রিল থেকে মার্চ। জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর অনুসরণ করে থাকে অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, চীন, পর্তুগাল, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুইডেনসহ আরো কয়েকটি দেশ।

বাংলাদেশ ছাড়া জুলাই-জুন সময়সীমায় অর্থবছর হিসাবকারী দেশ এখন হাতেগোনা কয়েকটি। এর মধ্যে পাকিস্তান ছাড়া আরো রয়েছে মিসর, অস্ট্রেলিয়া ও কেনিয়া। এছাড়া ইথিওপিয়ায় ৮ জুলাই ও নেপালে ১৬ জুলাই থেকে অর্থবছর শুরু হয়।

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, বহু বছর ধরেই অর্থবছর পরিবর্তনের দাবি চালু রয়েছে। অর্থবছরের শুরুর দিকটি বর্ষাকাল হওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নের হার সবসময় খারাপ হয়। এর পরও বাংলাদেশ অর্থবছরের সময়সীমার দিক থেকে পাকিস্তানের ঐতিহ্যটি বহন করে চলেছে।

বিষয়টি স্বীকার করছেন সাবেক সরকারি কর্তাব্যক্তিরাও। তারা বলছেন, অর্থবছর হিসাবের বর্তমান সময়সীমা পরিবর্তন না হওয়ার প্রধানতম কারণ আমলাদের অনীহা। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত আমলাদের কারণেই পিছিয়ে যেতে হয়। এতে অর্থবছরের সময়সীমা নিয়ে পাকিস্তান আমলের রীতি এখনো বহন করতে হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশে বদলানো হলো না মূলত আমলাদের জন্য। জুন-জুলাই অর্থবছর হওয়ার কারণে অনেক জটিলতাও সৃষ্টি হয়। ২০০৬ সালে এটি নিরসনে নীতিও প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক মনোভাব থেকেই পাকিস্তান আমলের করা নীতি এখনো চলছে। পশ্চিম পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি হয়তো ঠিক ছিল। কারণ দেশটিতে ঝড়-বৃষ্টি নেই। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নকাজের জন্য আবহাওয়ার বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিন-চার মাস বর্ষা থাকে, এ সময়ে কাজ করা যায় না। সেজন্য বারবার বলা হয়েছিল মার্চ-এপ্রিল করার বিষয়ে। এপ্রিলে আনলেও বাংলা বর্ষপঞ্জির সঙ্গে মিল থাকত, এপ্রিল মাসে বাজেট দিলে দুই-তিন মাসে কাজ এগিয়ে থাকত। এ সময়ে বর্ষা কেটে যেত। ফলে এ সময়ে কাজ এগিয়ে অক্টোবর নাগাদ পূর্ণ উদ্যমে কাজ এগিয়ে নেয়া সম্ভব হতো। ফলে কাজও হতো এবং কাজের গুণগত মানও ভালো হতো। কিন্তু আমাদের দেশের অর্থবছর আষাঢ়ে শুরু হয়ে আষাঢ়েই শেষ হয়। অর্থাৎ শুরু ও শেষ হচ্ছে ভরা বর্ষায়। নদীপ্রধান একটি দেশে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কারণেই এমন অসামঞ্জস্যতা থেকে যাচ্ছে।

প্রকৃতিগত বাধা ও অদক্ষতার কারণে কয়েক বছর ধরেই বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের (এডিপি) প্রায় অর্ধেকের বেশি খরচ হচ্ছে শেষ দুই-তিন মাসে। আবার জুনের মধ্যে দেশজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। এর পেছনে তড়িঘড়ি করে বিল পাওয়ার একটি বিষয় কাজ করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে জুনের আগে কাজ শেষ করে বিল নেয়ার প্রবণতা থেকে একসঙ্গে অনেকগুলো উন্নয়নকাজ তড়িঘড়ি করে করা হয়। এতে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। যদিও এসব নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে।

অর্থবছরের সময়সীমায় পরিবর্তনের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের।  তিনি বলেন, পরিবর্তনের ইতিবাচক দিক হয়তো আছে। কিন্তু পরিবর্তন করতে গেলে পরিবর্তনের যে ইতিবাচক দিক, তা সুনিশ্চিত করতে হলে বড় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করতে হবে। এ কর্মযজ্ঞেরও আর্থিক মূল্য আছে। অনেকে মৌসুমের কথা বলেন। এক্ষেত্রে জানুয়ারি থেকে করলে কৃষির সঙ্গে কিছুটা হয়তো সামঞ্জস্যতা আসবে।

এছাড়া বাংলা বর্ষপঞ্জির সঙ্গে মিলিয়ে এপ্রিল-মার্চ (বৈশাখ-চৈত্র) করা হলেও বৃষ্টি শুরুর আগেই আগের বছরের সব কাজ শেষ করা সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, একটি প্রদত্ত পদ্ধতিকে আমরা নিয়ে চলেছি। অর্থবছরের সময়কাল যে পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটি আমি মনে করি। কেননা অর্থবছর ও ক্যালেন্ডার বছর এ দুটি একসঙ্গে থাকার কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে এখনো ভুল বোঝাবুঝি আছে। তাই সেটি দূর করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানুয়ারি টু ডিসেম্বরই অর্থবছর হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। তবে আমার তীব্র আবেগ আছে, বাংলা বছর অনুসারে অর্থবছর হতে পারে। এ সময়কালটা কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃতিগত বিষয় সহযোগিতা করবে। তবে বাংলা বছর অনুসারে করতে গেলে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 

সম্পর্কিত খবর