শতভাগ গ্রাহক সন্তুষ্টি নিয়ে কাজ করছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স

আদম মালেক :

বীমা খাতে শতভাগ গ্রাহক সন্তুষ্টি নিয়ে কাজ করছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে বীমা গ্রহীতার স্বার্থ সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মিয়া ফজলে করিম। তিনি বলেন, উন্নত সেবাই আমাদের প্রতিশ্রুতি। গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আমরা সব সময় তৎপর।

বীমা খাতের  উন্নয়নে স্বচ্ছতা তৈরি, দক্ষ জনবলের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ, সেবার ক্রমাগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বরাপ করেন  এই বীমা ব্যক্তিত্ব । গর্বের সাথে মিয়া ফজলে করিম বলেন, আমরা খুবই গর্বিত ও আনন্দিত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ১৯৬০ সালের ১ মার্চ আলফা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যোগদান করেন। তাই বীমা পেশায় বঙ্গবন্ধুর যোগদানের তারিখটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২০ সাল থেকে ১ মার্চ সারা দেশে প্রথম বীমা দিবস উদযাপিত হয়। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো বীমা দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। এই দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বীমা নিয়ে সবার মনে যে অজ্ঞতা, অসচেতনতা, ভীতি ও অদুরদর্শিতা ছিল তা দুর হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এখন খাত বিকাশে স্বচ্ছতা তৈরি, দক্ষ জনবলের প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ, সেবার ক্রমাগত মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বীমা নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা নিশ্চিত করতে পারলে বীমার বার্তা আমরা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব। ক্রিস্টাল ইন্সু্রেন্স কোম্পানী চায় দেশের বিকাশমান অর্থনীতির মাধ্যমে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে। এই খাত ভালো থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে, জিডিপিতে বাড়বে অবদান। সম্পদের নিরাপত্তা এবং মানুষের আর্থিক ঝুঁঝি নিরাপাত্তায় আরো শক্তিশালী হবে এই বীমা খাত। তবে এজন্য শিক্ষিত জনগোষ্ঠি গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও মত প্রকাশ করেন এই বিজ্ঞ বীমা ব্যক্তিত্ব। বলেন, ক্রিস্টাল ইন্সু্রেন্স বীমা খাতে দক্ষ জনবল তৈরীতে কাজ করছে। বিভিন্ন সভা সমাবেশে উস্থিতিসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের দিকে জোর দিচ্ছে।

দক্ষ জনশক্তির অভাব ও এই ঘাটতি পূরণে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিটি কোম্পানিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। ইন্স্যুরেন্স একাডেমীকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের দেশে অ্যাকচুয়ারি তৈরী করতে হবে। তবে পেজেটিভ দিক হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বীমার ওপর একটি বিষয় চালু করা হয়েছে। এর বাইরেও উদ্যোগ রয়েছে। একইসাথে বীমায় দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে বিভিন্ন মহল থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এতে করে একসময় দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকবে না।

 

সাধারণ বীমার ব্যবসা বৃদ্ধি নিয়ে এই দক্ষ বীমাবিদ বলেন, সাধারণ বীমা খাতের প্রবৃদ্ধি দেশের সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে। যত বেশি কারখানা হবে, তত বেশি অগ্নি বীমা হবে। এভিয়েশন খাতের আকার বাড়লে বীমাও বাড়বে।  মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ার কারণেও বীমার পরিমাণ বাড়ছে।

কথা বলেন বীমা পণ্য নিয়ে। পণ্য বৈচিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে  ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বীমা খাতকে আকর্ষণীয় করতে হলে নতুন নতুন পণ্য আনতে হবে। বিশেষ করে সার্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা, কৃষি বীমার মতো সেবা নিয়ে আসতে হবে। এসব বীমা পণ্য জনপ্রিয় করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে । এখানে প্রথমত লোকসান আসে। তাই সরকারের ভর্তুকি দরকার। ভর্তুকি না পেলে স্বাস্থ্য বীমা টিকতে পারবে না। স্বাস্থ্য বীমা লাইফে আছে তবে নন লাইফ শুরু করেছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী চায়, বাজারে নতুন নতুন বীমা পণ্য আসবে, গ্রাহক আরো আকৃষ্ট হবে দেশের বীমা ব্যবস্থার প্রতি।

 ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের বীমা খাত এমন মন্তব্য করে কোভিডের কুপ্রভাব নিয়ে মিয়া ফজলে করিম বলেন, কোভিডে দেশের অর্থনীতির সাথে সাথে বীমা ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। গার্মেন্টস এর ব্যবসা কমে গেছে। অনেক গার্মেন্টস বন্ধ হয়ে যায়। এলসি হয়নি। কোভিডের দু বছরে ব্যবসা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে এখন সময়ের পরিবর্তনে দেশের ব্যবসা ব্যাণিজ্য অর্থনীতি এব বীমা শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সও পরিকল্পিত সেবা মানুষের কাছে পৌছে দিতে কাজ করছে।

এ পর্যায়ে একটি সম্ভাবণার স্বপ্ন তুলে ধরেন এই অভিজ্ঞ  বীমা ব্যক্তিত্ব। বলেন, বড় দাবি হলেই আমরা সাধারণ বীমার সাথে রি-ইনস্যুরেন্স করি। ৪ শ কোটি টাকা হলে সাধারণ বীমার সাথে  রি-ইনস্যুরেন্স করতে হয়। আর এর বেশী টাকা হলে বিদেশী কোম্পানীর সাথে রি-ইনস্যুরেন্স করতে হয় । আমাদের বাংলাদেশে একটি রি-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী দরকার। রি-ইন্স্যুরেন্সের জন্য বাংলাদেশের সক্ষমতা আছে। বাংলাদেশে করপোরেট পুঁজির মালিকরা আছে। তারা যদি একটি রি-ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী গঠন করে তাহলে তা আমাদের জন্য সুবিধাজনক হবে। দেশের টাকা বিদেশে যাবে না, দেশেই থাকবে। আশাব্যক্ত করে বলেন, ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশেও কোন একদিন -ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হবে।

আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের এই মূখ্য নির্বাহী কর্মকতা বলেন, গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো ছাড় দিই না। বীমা দাবির অর্থ আমরা যথাসময়ে গ্রাহকদের পরিশোধ করে থাকি। এতে গ্রাহকরা আমাদের ওপর আস্থা রাখছেন। নিত্যনতুন পণ্যের মাধ্যমে সেবা আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। গ্রাহক সেবার মধ্যদিয়ে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড দেশ সেরা আলোকিত বীমা প্রতিষ্ঠান হবে।

সম্পর্কিত খবর