শিরোনাম
icon ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯৮২ icon রিয়াদ-দাম্মামের ১৫৩ ফ্লাইট বাতিল icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৪৪০ কোটি টাকা icon পোশাক রপ্তানি বাড়লেও নির্ভরতা মৌলিক পণ্যে icon শ্যামপুর সুগার মিলসের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ icon ঢাকা ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ icon নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ : সিইসি icon লভ্যাংশ দেবে না আজিজ পাইপস icon সামিট পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon বিডি অটোকার্সের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইভেন্স টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon ইউনাইটেড পাওয়ারের লভ্যাংশ ঘোষণা icon লোকসানেও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের লভ্যাংশ ঘোষণা icon উপকূল পেরিয়ে দুর্বল হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব icon বেতন দিতে বিশেষ ঋণ নিচ্ছে সরকার icon আবারও বাড়ল সোনার দাম icon জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও icon বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের ঘোষণা icon গ্রীষ্মের আগে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ icon দরপতনের শীর্ষে মীর আক্তার হোসেন icon ডেঙ্গুতে আরও ১১ মৃত্যু, ভর্তি ২,০৭১ icon অর্থছাড়ে শীর্ষে আইডিএ ও এডিবি icon শ্যালিকাকে বিয়ে করে বাড়িছাড়া মাসুদ icon সূচকের পতনে লেনদেন ৪০৩ কোটি টাকার icon ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন
down of head

রুশ গ্যাসনির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রমুখী ইইউ

জ্বালানি চাহিদা পূরণে রাশিয়ান গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো। কিন্তু পুতিন ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে ইইউসহ পশ্চিমা দেশগুলো। দেশটি থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বন্ধু দেশকে বেছে নিয়েছে অঞ্চলটি।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ সম্প্রতি নিজেদের মধ্যে একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে। মূলত রুশ জ্বালানির ওপর ইউরোপের নির্ভরতা কমাতে এ চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়।

এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের বাজারে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া ইউরোপে যে পরিমাণ গ্যাস ইউরোপে সরবরাহ করে, তার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক ব্লকটি এরই মধ্যে জানিয়েছে, এটি রাশিয়ান গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে আনবে।

বর্তমানে ইউরোপের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস রাশিয়া সরবরাহ করে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ ইউরোপে ২ হাজার ২০০ কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করেছিল। নতুন চুক্তিতে এসব দেশ ইউরোপে অতিরিক্ত আরো ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করবে। সে হিসাবে এসব দেশ যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করবে তা রুশ সরবরাহের ২৪ শতাংশ।

প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলো প্রতি বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে পাঁচ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার মানে অনেক বেশি পরিমাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা। এর পাশাপাশি জ্বালানি সক্ষমতার উন্নয়ন ও আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তিনদিনের সফরে বেলজিয়াম গেলে দেশটির রাজধানী ব্রাসেলসে এ চুক্তির ঘোষণা দেয়া হয়। বাইডেন ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসালা ভন ডের লিয়েন এ সময় ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা কিয়েভে সহায়তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্রাসেলসে বাইডেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পুতিন তার দেশের জ্বালানি সম্পদকে ব্যবহার করছেন। তিনি যুদ্ধাস্ত্রের ব্যয় সামাল দিতে জ্বালানি খাতের উপার্জনকে কাজে লাগাচ্ছেন।

চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি যে ফলাফল পাওয়া যাবে তা বর্তমানের স্বল্পমেয়াদি সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

তিনি আরো বলেন, আমি জানি, রাশিয়ান গ্যাস আমদানি বন্ধ করে দিলে তার ভয়াবহ দাম দিতে হবে ইউরোপকে। তবে রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এখন শুধু নৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং কূটনৈতিক দিক থেকেও সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট ভন ডের লিয়েন বলেন, আমরা গ্যাস সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে চাই। এক্ষেত্রে রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য দেশগুলোর প্রতি আমরা আস্থা রাখছি।

বছরে পাঁচ হাজার কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানির লক্ষ্যর বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে আমরা রাশিয়া থেকে যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি করি, তার এক-তৃতীয়াংশই বন্ধু রাষ্ট্রগুলো সরবরাহ করবে। আমরা গ্যাস সরবরাহের দিক থেকে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে অন্যান্য উৎস অনুসন্ধানের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা আমাদের সফল গন্তব্যে নিয়ে যাবে বলে আশা করছি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট আমদানীকৃত গ্যাসের ৪০ শতাংশই রাশিয়া থেকে ক্রয় করে। অঞ্চলটি যদি রাশিয়ার ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে আনে, তবে অন্যান্য উৎস থেকে অঞ্চলটিকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো, কোথা থেকে তারা সম্পূর্ণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে নরওয়ে থেকে এরই মধ্যে গ্যাস আসছে। তবে এসব পাইপলাইন পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করছেন। এছাড়া ইইউ উত্তর সাগর থেকেও গ্যাস পায়। তবে সেখান থেকে তুলনামূলক অনেক কম গ্যাস আসে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিকল্প হিসেবে কাছের উৎসগুলোর পাশাপাশি দূরের উৎসগুলো থেকে নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্যাস এলএনজি আকারে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু এলএনজি সরবরাহ নিয়ে এরই মধ্যে বাজারে আলজেরিয়া ও কাতারের মতো দেশগুলোয় ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। এটি জ্বালানিটির দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।

নতুন চুক্তির মাধ্যমে বছরে যে পাঁচ হাজার কোটি ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, তা বর্তমান সরবরাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত সরবরাহকে আশার আলো হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে রাশিয়া থেকে আমদানি বন্ধ করে দিলে যে সংকট তৈরি হবে তা পূরণে পর্যাপ্ত নয় এটি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবিক অর্থে কতটুকু গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া কত দ্রুত দেশটি ইইউ অঞ্চলে গ্যাস রফতানি বাড়াতে পারবে এবং এসব গ্যাসের জাহাজীকরণ ব্যয় কেমন হবে তা নিয়েও ভাবছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্য বলছে, দীর্ঘ সময় ধরেই ইইউ স্বল্প মূল্যে গ্যাস সুবিধা ভোগ করছে। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে, স্বল্প মূল্যে গ্যাস প্রাপ্তির অবসান ঘটতে চলেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগে থেকেই জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ছিল। কারণ মহামারী ধাক্কা সামলে বেশির ভাগ অর্থনীতিই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

ইউক্রেনে আক্রমণের কারণে ইইউ রাশিয়ান গ্যাস ব্যবহার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ অঞ্চলটি রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে চায়। পরিবর্তে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়ানো হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধিতেও জোর দিচ্ছে অঞ্চলটি।

সম্পর্কিত খবর