ভিয়েতনামে সরবরাহ সংকটে শ্লথ কফি বাণিজ্য
ভিয়েতনামে কফি উৎপাদন মৌসুম শেষ হতে চলেছে। কিন্তু এ সময় সরবরাহ সংকটের কারণে দেশটিতে পণ্যটির বাণিজ্য শ্লথ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে কফি বিন আসার পরিমাণও কমেছে। খবর নাসডাক।
ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদন অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডস। এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রতি কেজি কফি ৪৪ হাজার ২০০ থেকে ৪৪ হাজার ৭০০ ডং বা ১ ডলার ৮৯ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৯০ সেন্টে বিক্রি করেছেন। গত সপ্তাহের তুলনায় বেশি দামে কফি বিক্রি হয়েছে। ওই সময় দাম ছিল ৪৪ হাজার থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ ডং।
কফি বেল্টটির ব্যবসায়ীরা বলছেন, কম সরবরাহের কারণে স্থানীয় বাজারে কফির দাম বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহে কোনো চুক্তি বাতিল হয়নি। এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত কফি ক্রয় করেছেন। ফলে বেচাকেনায় এখন কিছুটা মন্দা চলছে। বছরের শেষে আবারো বিক্রি বাড়বে।
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরে ভিয়েতনামে নতুন কফি উৎপাদন মৌসুম শুরু হবে। এ মৌসুমে কৃষকরা অনুকূল আবহাওয়ার সুবিধা পাবেন। এ কারণে তারা অন্যান্য কৃষিপণ্যের বিপরীতে কফি উৎপাদনে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।
বর্তমানে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা ৫ শতাংশ কালো ও ভাঙা গ্রেডের রোবাস্তা কফি মূল্যছাড়ে টনপ্রতি ১০০-১৩০ ডলারে বিক্রি করছে। এসব কফি নভেম্বরে সরবরাহের জন্য চুক্তি হচ্ছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের কফি রফতানি ২১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩০ হাজার টনে, যা ১ কোটি ৭২ লাখ ব্যাগের (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) সমান। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভিয়েতনামের জেনারেল স্ট্যাটিসটিকস অফিস।
রোবাস্তা কফি রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ ভিয়েতনাম। স্ট্যাটিসটিকস অফিসের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি কফি রফতানি থেকে ২৩০ কোটি ডলার আয় করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসেই ভিয়েতনাম ১ লাখ ৪৫ হাজার টন কফি রফতানি করেছে। রফতানি থেকে আয় এসেছে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এদিকে ভালো বাজার থাকায় আফ্রিকা মহাদেশে কফি রফতানি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও উঁকি দিচ্ছে সম্ভাবনা।
মার্কিন কৃষি বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে ভিয়েতনামের কফির উৎপাদন বেড়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যাগে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২২-২৩ মৌসুমে উৎপাদন ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৯ লাখ ব্যাগে নামার আশঙ্কা রয়েছে।



