বড় ব্যবধানে কমতে পারে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি
২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি বড় ব্যবধানে কমার পূর্বাভাস মিলেছে। ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে ইতিবাচক উৎপাদন পরিস্থিতি ঘাটতি কমাতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্রিন পুল।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি দাঁড়াবে ৭ লাখ ৪২ হাজার টন। ২০২১-২২ মৌসুমে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০ লাখ ৩০ হাজার টন। ঘাটতি কমলে বাজারে স্থিলিশীলতা ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২২-২৩ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন ২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার টন।
ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ। ভোগ্যপণ্যটির বৈশ্বিক বাজারে উত্থান-পতনের অনেকটাই নির্ভর করে দেশটির উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর। গত বছর ভয়াবহ খরা দেখা দিলে আখ উৎপাদনে ধস নামে। ফলে চিনি উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তার ওপর নতুন করে তুষারপাতের ধাক্কায় উৎপাদন প্রায় তলানিতে নামে। তবে চলতি বছর থেকে ব্রাজিলে উৎপাদন পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে বলে মনে করছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস। এরই মধ্যে উৎপাদন বাড়তে শুরু করেছে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডও পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। স্ট্যাটিস্টার দেয়া তথ্যমতে, বৈশ্বিক চিনি উৎপাদনে ষষ্ঠ থাইল্যান্ড। ২০২১-২২ মৌসুমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে বলে জানায় স্টোনএক্স।
এদিকে গত মৌসুমের মতো চলতি মৌসুমেও ভারতে আখ উৎপাদন ভালো হয়েছে। উৎপাদন ২ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এশিয়ায় অনুকূল আবহাওয়া এসব দেশের উৎপাদন বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
তবে স্টোনএক্স বলছে, ভারতের চিনি উৎপাদন আরো বাড়ার সম্ভাবনা ছিল। দেশটি আখ ও বিট থেকে ইথানল তৈরি না করলে আরো ৩০ লাখ টন চিনি উৎপাদন সম্ভব হতো।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় চিনি উৎপাদন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে ক্রমাগত বাড়ছে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক ঘাটতি আরো কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজার পর্যবেক্ষকরা জানান, এক বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী। ব্রাজিলে উৎপাদন বিপর্যয় ও ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রার দাম কমায় এতে জ্বালানি জুগিয়েছে। তবে চিনির ঊর্ধ্বমুখী দাম কৃষকদের আখ উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। যদিও জ্বালানি, রাসায়নিক ও সারের বৈশ্বিক বাজারদরে উল্লম্ফন উৎপাদন ব্যয়ও বাড়িয়েছে। ফলে প্রত্যাশার পাশাপাশি উদ্বেগও কাজ করছে কৃষক ও মিল মালিকদের মধ্যে।
২০২২-২৩ মৌসুমে বিশ্বে ভোগ্যপণ্যটির ব্যবহার বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। গ্রিন পুল জানায়, মৌসুমজুড়ে চিনি ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৮ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার টন, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি।



