বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত কমার আশঙ্কা ওপেক প্লাসের
চলতি বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাস। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে প্রাক্কলিত উদ্বৃত্তের পরিমাণ কমিয়েছে জোটটি। জয়েন্ট টেকনিক্যাল মিটিংকে সামনে রেখে এ প্রতিবেদন তৈরি করে ওপেক প্লাস। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম ও রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসবে। এর আগের প্রাক্কলনে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল উদ্বৃত্তের কথা জানিয়েছিল ওপেক প্লাস। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত কমবে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে।
ওপেক প্লাস নির্দিষ্ট কোটার অধীনেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। মে মাসে জোটটি দৈনিক ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়াতে সম্মত হয়। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ওপেক প্লাস। ওই মাসে কোটার চেয়ে দৈনিক ২৭ লাখ ব্যারেল কম জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়।
গত মাসে জোটটি আবারো দৈনিক ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এবারো কোটা অনুযায়ী উত্তোলন বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
জুলাই ও আগস্টের জন্য জোটটির আরো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে। এ দুই মাসে ওপেক প্লাস আরো বেশি মাত্রায় উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উদ্দেশ্য চলমান সংকট মোকাবেলার মাধ্যমে বাজারে স্থিতি ফিরিয়ে আনা। কিন্তু ওপেক প্লাসের প্রতি মাসেই উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত উদ্বৃত্ত কমিয়ে আনবে।
ওপেকের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ নাইজেরিয়া। কিন্তু বিনিয়োগস্বল্পতা ও উত্তোলন সক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে দেশটি উত্তোলন বাড়াতে পারছে না। এ বিষয়কেই ওপেক প্লাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। মে মাসে নাইজেরিয়া কোটা মোতাবেক জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে ব্যর্থ হয়। ওই মাসে দেশটির উত্তোলন ও নির্ধারিত কোটার মধ্যে ব্যবধান ছিল দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল। যদিও গত সপ্তাহে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী জানান, আগস্টের মধ্যেই দেশটি নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হবে।
এদিকে সম্প্রতি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছে ওপেক প্লাসের টেকনিক্যাল প্যানেল। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ দৈনিক দুই লাখ ব্যারেল করে কমানো হয়েছে।
এনার্জি ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে বলা হয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও কভিড-১৯ ভাইরাসের নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধি পূর্বাভাসের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় চাহিদা পূর্বাভাস পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এদিকে মে মাসে ওপেক জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি জোটটি এক প্রতিবেদনে জানায়, এপ্রিলের দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদা দৈনিক ৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল কমবে।
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণে দেশটিকে ওপেক প্লাসের জ্বালানি তেল উত্তোলন চুক্তি থেকে বাদ দেয়ার কথা ভাবছে ওপেকের বিভিন্ন সদস্য দেশ।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, রাশিয়াকে গ্রুপের চুক্তি থেকে বাদ দিলে অন্য সদস্য দেশগুলোর জন্য আরো বেশি মাত্রায় ও দ্রুতগতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হবে। যদিও জোটটির খুব কম সদস্যই আছে, যারা বর্তমান চুক্তি অনুসারে দ্রুত উত্তোলন বাড়ানোর সক্ষমতা রাখে। তবে রাশিয়াকে গ্রুপ থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অথবা প্রতীকী পদক্ষেপ।



