বিমা খাতে দৃঢ় অবস্থানে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স
আর্থিক শৃঙ্খলা, বিমা দাবি পরিশোধ ও ব্যববসায়ীক সফলতায় এগিয়ে চলছে দেশের শীর্ষ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীক সফলতা ও দৃঢ় অবস্থানের চিত্র উঠে আসে। নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আন্তর্জাতিক হিসাবমান এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের যাবতীয় আইন ও নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করেই কোম্পানির সার্বিক আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করা হয়েছে ।
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নিরীক্ষা প্রতিবেদনের কোথাও ১২০ কোটি টাকার সম্পদের অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়ে নিরীক্ষকের কোনো মন্তব্য নেই। নিরীক্ষকগণ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কোম্পানির বিল, ভাউচার, দলিল, চুক্তি, স্থায়ী সম্পদ ও ব্যাংক বিবরণী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। বিমা গণিতবিদ বা একচুয়ারি কর্তৃক স্বাধীনভাবে বিমাপত্রের ভবিষ্যৎ দায় ও জীবন তহবিল হিসাব করে আইন অনুযায়ী উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনক্রমে নির্ধারিত এই উদ্বৃত্তের মাত্র ১০ শতাংশ অংশীদারদের মাঝে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হয় এবং বাকি ৯০ শতাংশ বিমাগ্রাহকদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোম্পানির আর্থিক ঘাটতি থাকা অবস্থায় লভ্যাংশ বিতরণের কোনো সুযোগই নেই।
ব্যাংক জমার ৪৪ কোটি টাকা কম পাওয়ার গুঞ্জন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাবের সমন্বয় একটি নিরবচ্ছিন্ন ও চলমান প্রক্রিয়া। নিরীক্ষা চলাকালীনও এই প্রক্রিয়া অব্যাহত ছিল। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ামের টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় ব্যাংক হিসাবের একটি বড় অংশ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ছিল, যা সম্পূর্ণ নিয়মমাফিক। একইভাবে, গ্রাহকদের বিমা আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমার সুবিধা থাকায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া প্রিমিয়াম ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পান গ্রাহকরা। এই সম্ভাব্য প্রিমিয়ামকে আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুসারেই বকেয়া প্রাপ্তি হিসেবে হিসাবভুক্ত করা হয় এবং হালনাগাদ তথ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে।
প্রতিনিধিদের কাছে বকেয়া প্রিমিয়াম সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংগৃহীত প্রিমিয়ামের নগদ টাকা কোম্পানিতে পৌঁছাতে ২ থেকে ৪ দিন সময় লাগলে তা সাময়িকভাবে প্রতিনিধি স্থিতি হিসেবে প্রদর্শন করা হয়, যা বিমা ব্যবসার একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। এছাড়া, আর্থিক সংকটে থাকা লিজিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপরীতে আইন ও আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী যথোপযুক্ত প্রসংস্থান বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্বল ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা প্রায় ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা উদ্ধারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের আলোকে কাজ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তা উদ্ধার সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
পূর্বাচল প্রকল্পে ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকার অগ্রিম বরাদ্দের বিষয়ে রূপালী লাইফ জানিয়েছে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে প্রস্তাবিত রূপালী লাইফ জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং রাজউকের কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন জমা দেওয়া হয়। ১৫ লাখ টাকা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে রাজউকের চালানে জমাদানসহ জমি বরাদ্দের প্রাথমিক সমস্ত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে রাজউক থেকে জমি চূড়ান্ত বরাদ্দের প্রক্রিয়াটি অপেক্ষমাণ থাকায় বর্তমানে এটি কোম্পানির নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
জীবন তহবিল হ্রাস ও বিমাগ্রাহকদের বোনাস কমে যাওয়া প্রসঙ্গে জানানো হয়, কোম্পানির জমা তহবিল থেকে নিয়মিতভাবে গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ বিমা দাবি পরিশোধ করার কারণেই এই সংখ্যায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, যা একটি বিমা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতারই পরিচয় বহন করে। গ্রাহকের তহবিলের সুরক্ষায় রূপালী লাইফ তাদের বেশিরভাগ সম্পদ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও ব্যাংকিং স্থায়ী আমানতে অত্যন্ত নিরাপদে বিনিয়োগ করে রেখেছে।
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স দেশের বিমা শিল্পের অন্যতম শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। বিমা আইন অনুযায়ী সকল বিমা দাবি সময়মতো পরিশোধে কোম্পানিটি বদ্ধপরিকর এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিয়মিত সকল পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা ও আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটি আগামীতেও আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে
রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স জানিয়েছে।



