বাংলাদেশ-ভারত ইলিশ বাণিজ্যে স্থবিরতা
ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানীর এক সপ্তাহের মধ্যে ইলিশ বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
ভারতীয় আমদানিকারকরা অনেকেই এলসি বাতিল করার পথে হাঁটছেন বলে জানা গিয়েছে। গত সাত দিনে মাত্র ৬৮ টন ইলিশ এসেছে ভারতে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইলিশের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানকার রপ্তানীকারকরাও সাড়ে বারো ডলার মূল্যে ইলিশ পাঠাতে আগ্রহী নন বলে কলকাতায় ফিস ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েসন সূত্রে বলা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানী শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সেদেশের ৩৭টি সংস্থাকে সাড়ে বারো ডলার মূল্যে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১২০০ টন ইলিশ রপ্তানীর অনুমোদন দিয়েছে। সেই মত গত মঙ্গলবার মধ্য রাতে ৩৮.৮ টন ইলিশের প্রথম চালানটি ভারতে এসেছে। এরপরে পর্যায়ক্রমে আরও তিন বারে ইলিশ এলেও এখন ইলিশ আসা একপ্রকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ফিস ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েসনের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ইলিশের ঘাটতির কারণে মাছ আসছে না। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অমাবস্যা কেটে গেলে ইলিশ ধরায় গতি এলে ভারতে ইলিশ আসা শুরু হবে।
কলকাতার বাজারে বাংলাদেশের ইলিশ আসার পর যে খুশির রেশ দেখা গিয়েছিল তা ইতিমধ্যেই মিলিয়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে ইলিশ আসছিল ওভার ইনভয়েসে। ফলে দাম পড়ছিল অনেক বেশি। কেনার খরচ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০০০ রুপি। ক্রেতাদের কাছে সেই ইলিশ ২৪০০-২৫০০ রুপি দরে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তাই ইলিশ আমদানিতে আগ্রহ হারিয়েছেন তারা।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশে ইলিশের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দামও অসম্ভব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই রপ্তানীকারকরা বেশি দামে ইলিশ কিনে তা ভারতে পাঠাতে চাইছেন না লোকসানের ঝুঁকি থাকায়। ইলিশ বাণিজ্যের এই স্থবিরতা কাটবে বলে মনে হয় না বলে জানিয়েছেন মাকসুদ। প্রথম থেকেই তিনি দাবি করে এসেছেন যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ১২০০ টন মাছ আনা সম্ভব নয়। এরই মধ্যে যোগানের সঙ্কট ও দামবৃদ্ধির সমস্যা ব্যবসায়ীদের চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কাছে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের চাহিদা থাকলেও গত ৫ বছর ধরে ইলিশ আসা ক্রমশ কমছে। গত বছর বাংলাদেশ সরকার শেষ মুহূর্তে ২৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রফতানির জন্য বরাদ্দ করলেও সময়াভাবে মাত্র ৫৭৭ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি করা সম্ভব হয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরেই এই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ আমদানিকারীদের।
আমদানিকারকদের দেওয়া পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ২০২১ সাল থেকেই এই পরিস্থিতি চলছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার ৪৬০০ মেট্রিক টন রফতানির জন্য অনুমতি দিলেও আমদানি করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ১২০০ মেট্রিক টন। ২০২২ সালে ২৯০০ মেট্রিক টনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আনা হয়েছিল ১৩০০ মেট্রিক টন। আর ২০২৩ সালে ৩৯৫০ মেট্রিক ট্রন অনুমোদন দেওয়া হলেও আমদানি করা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ৫৮৭ মেট্রিক টন। একমাত্র ২০১৯ সালে বাংলাদেশ সরকার মাত্র ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠিয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ আমদানিকারকদের মতে, বাংলাদেশ সরকার রফতানির জন্য যে সময় নির্দ্দিষ্ট করে দেন এবং শেষ মুহূর্তে অনুমতি দেবার ফলে পুরো রফতানি বরাদ্দ আনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সর্বত্র সেই মাছ দেওয়া যাচ্ছে না বলে অসন্তোষ তৈরি হয়।



