শিরোনাম
স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, ভর্তি ১,৯০২তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণমিউচুয়াল ফান্ডে এনএভি বিবেচনার আহ্বান বিএসইসিরবন্ডের ১৩.৩৫ লাখ কেজি কাঁচামাল উধাওসূচকের পতনে লেনদেন ৫৩৭ কোটি টাকারসিএন্ডএ টেক্সটাইলের কারখানা বন্ধ পেল ডিএসইনিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রীডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৪১৪সোনার দাম কমলনোবেল জয়ীদের নাম ঘোষণা শুরু আজরাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, ভর্তি ২০৮৯ফের বাড়ল এলপিজির দাম৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য
down of head

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির গ্লাস সিলিং ভাঙতে হবে: মাসুদ খান

দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসা নিয়ে যে মানসিক বাধা বা ‘গ্লাস সিলিং’ রয়েছে, তা ভাঙতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে নতুন মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সিএ ভবনে আইসিএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের পাঁচটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান-আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইআইএবি ও এসিসিএ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নিরীক্ষা, প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পেশাজীবী সংস্থাগুলোর ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবি প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ এবং সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএমএবি প্রেসিডেন্ট কাউসার আলম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, একটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) সম্পন্ন হতে তিন মাসের বেশি সময় লাগার কোনো কারণ নেই। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএসইসির নথি যাচাইয়ের কাজের সঙ্গে অডিটরদের মাধ্যমে অতিরিক্ত নিরীক্ষা যুক্ত করা গেলে আইপিও প্রক্রিয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে যে মানসিক বাধা রয়েছে, তা দূর করা প্রয়োজন। একটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজার থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়। তাই তালিকাভুক্তিকে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও মূলধন সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা দেখলেই হবে না বলে মন্তব্য করেন মাসুদ খান।

তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিবেদনে থাকা বিভিন্ন সংখ্যার মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সেগুলো বাস্তবসম্মত কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা জরুরি। কোনো কোম্পানির মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও একই সময়ে নগদ অর্থ কমে গেলে সেটি সতর্কসংকেত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চলতি মূলধনের পরিবর্তন, নগদ প্রবাহ এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মাসুদ খান বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে প্রতিষ্ঠানের ‘তৃতীয় চোখ’ হিসেবে দেখা যায়। এ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, একজন বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আর্থিক প্রতিবেদন, ব্যবসার গতিশীলতা ও মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করেন। এসব প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকলে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো পুঁজিবাজার ও দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মানদণ্ড শুধু গ্রহণ করলেই হবে না; সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

পেশাগত সততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেশাগত সততা মূলত নিজের ওপর আরোপিত একটি শৃঙ্খলা। তবে আত্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি ও শাস্তির ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএসইসির মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে আলাদাভাবে না থেকে সমন্বিতভাবে এবং ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, কোনোভাবেই আশা হারানো উচিত নয়। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বর্তমান অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট সাব্বীর আহমেদ বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও রপ্তানি আয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত হারে মুনাফার মার্জিন বাড়ছে না। এর অন্যতম কারণ হলো, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রকৃত খরচ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও সঠিক ধারণা না রেখেই বাইরের পক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষি করে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও প্রকৃত মুনাফার চিত্র স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিধি যত বাড়ছে, ততই শক্তিশালী করপোরেট সচিবালয়, পরিপালন ও সুশাসন সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় আয় ভালো হওয়াই যথেষ্ট নয়; টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, মুনাফার মার্জিন ব্যবস্থাপনা, করপোরেট সুশাসন ও পরিপালন সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আইসিএমএবি সভাপতি আরিফ খান বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যতই অভিজ্ঞ হোক, বাজারের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা যাবে না। বাজারে হাজার হাজার ও লাখো অংশগ্রহণকারী থাকায় তাদের সম্মিলিত জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বাজারের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, কোনো অনিয়ম বা ভুল তথ্যের জন্য সব দায় শুধু নিরীক্ষকের ওপর চাপানো ঠিক নয়। নিরীক্ষক সাধারণত নমুনাভিত্তিকভাবে হিসাব পরীক্ষা করেন। কোম্পানির আর্থিক তথ্যের মূল দায় প্রথমত উদ্যোক্তা বা প্রমোটারের এবং এরপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কোম্পানির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার।

আরিফ খান বলেন, বড় পারিবারিক ব্যবসাগুলোতে দ্বিতীয় প্রজন্মে সম্পদ ও শেয়ার বণ্টন নিয়ে অনেক সময় বিরোধ তৈরি হয়। কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে মালিকানা বণ্টন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে কাঠামোবদ্ধভাবে করা সম্ভব।

সম্মেলনে আইসিএবির ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান এফসিএ ‘বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রতিবেদন প্রণয়ন, সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আইসিএবির ভূমিকা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আইসিএমএবি সভাপতি আরিফ খান এফসিএমএ, এসিসিএ কান্ট্রি ম্যানেজার প্রমা খান, আইআইএবি প্রেসিডেন্ট এম. নুরুল আলম এবং আইসিএসবি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান।

সম্পর্কিত খবর