পুঁজিবাজারে আরো এক বছর বিনিয়োগের সুযোগ চায় বিএমবিএ
আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে শুধু পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। যা পুঁজিবাজারে অর্থ জোগানের জটিলতা কাটাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। এ প্রস্তাবের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এটা ‘বিবেচনাযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।
বিএমবিএ ও ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২২-২৩: প্রেক্ষিত পুঁজিবাজার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সিএমজেএফ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রস্তাব উপস্থাপন করেন বিএমবিএ সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান।
বিএমবিএ সভাপতি বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ শুধু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হলে পুঁজিবাজারে অর্থ জোগানের জটিলতা অনেক কমে আসবে। এছাড়া এ অপ্রদর্শিত অর্থ যদি পুঁজিবাজারের মাধ্যমে মূলধারার বিনিয়োগে নিয়ে আসা যায় তাহলে আগামীতে আমাদের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে। আর পুঁজিবাজারে এ অর্থ বিনিয়োগ হলে সরকার বিভিন্ন আঙ্গিক থেকে কর পাবে। কেননা পুঁজিবাজারে আমরা লেনদেনের ওপর কর দিই, লভ্যাংশের ওপর কর দিই, করপোরেটসহ বিভিন্ন কর দিই। এখানে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ হলে সরকারও লাভবান হবে আর পুঁজিবাজারও গতিশীল হবে।
বিএমবিএ সভাপতির এ প্রস্তাবকে ব্যক্তিগতভাবে সম্মতি জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ দাবির সঙ্গে আমি পুরোপুরি একমত। এটি একটি ভালো প্রস্তাব। ২০২১ সাল থেকেই বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে অপ্রদর্শিত অর্থ কর দিয়ে সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারও প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকা কর পেয়েছে। বর্তমান সরকারের সর্বশেষ অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে। এটাকে অনেকে নগণ্য বললেও তা কম নয়। কেননা এ সময়ে আমরা কৃষি খাতে ভর্তুকি দিয়েছি ৯ হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া অনেক মন্ত্রণালয়ের বাজেটও ১০ হাজার কোটি টাকার কম। সেক্ষেত্রে এমন বড় একটি অংশ যদি অপ্রদর্শিত অর্থের কর থেকে আসে এবং এ অর্থ যদি বিনিয়োগের মাধ্যমে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হয় সেটা কখনই খারাপ হতে পারে না।
তিনি বলেন, যারা অপ্রদর্শিত অর্থ অবৈধভাবে আয় করেছে তারা অবশ্যই শাস্তি প্রাপ্য। কিন্তু অনেক সময় তথ্যের অভাবে এ শাস্তি দেয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে যদি কিছুটা ছাড় দিয়েও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়া হয়, সেটা মন্দ নয়।
অনুষ্ঠানে বিএমবিএর পক্ষ থেকে মোট পাঁচটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে করপোরেট করহার কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা অন্যতম। বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার ৩০ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ২৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। এক্ষেত্রে আগের মতো তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহারের ব্যবধান সাড়ে ৭ শতাংশই থাকছে। এ ব্যবধান বাড়ানোর জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ১৫ শতাংশ চায় বিএমবিএ, যা পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি আনতে ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার বর্তমানে এক। এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ভ্যাট হার কমিয়ে ১০ করার প্রস্তাব করেছে বিএমবিএ। এছাড়া লভ্যাংশ প্রদানের সময় প্রদান করা ১০ শতাংশ অগ্রিম করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনার দাবি সংগঠনটির। করপোরেট কর কর্তনের পর লভ্যাংশ প্রদান করা হয়। লভ্যাংশ প্রদানের সময় আবার অগ্রিম কর নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেই লভ্যাংশগ্রহীতার ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্নের সময় তার ওপর প্রযোজ্য হারে কর প্রদান বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে বলে মনে করছে বিএমবিএ।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও চলতি বছরের মতো মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে সাধারণ কোম্পানিগুলোর করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএমবিএ মনে করে মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট করহারও অন্যান্য সাধারণ কোম্পানির মতো হওয়া উচিত। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) যুক্ত করে ভুল ব্যবস্থাপনায় ফেলা হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।



